বাসস
  ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১১

নীলফামারীকে আধুনিক জেলায় রূপান্তর করার ইচ্ছা : নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শাহরিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। ছবি: বাসস

নীলফামারী, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেছেন, নীলফামারীকে একটি আধুনিক জেলায় রূপান্তর করবো।  

তিনি জেলার উন্নয়নে জোড় দেন শিল্পের বিকাশসহ শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে। এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উত্তরা ইপিজেডের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে করতে চান বেকার সমস্যা সমাধান।

প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাত ভাই। সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন 
অব বাংলাদেশের (অ্যাব)। নীলফামারী-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে হেভিওয়েট এ প্রার্থীকে।

আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নীলফামারী জেলা সংবাদদাতা ভুবন রায় নিখিল।

বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

শাহরিন ইসলাম চৌধুরী : নির্বাচনী কোনো প্রতিশ্রুটি নেই। নির্বাচনী আচরণবিধিতে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব না। তবে অনেক ইচ্ছা আছে, নীলফামারীকে একটা আধুনিক জেলায় রূপান্তর করার। নীলফামারীর শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর। এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা, এখানকার মেডিক্যাল কলেজকে স্থায়ী রূপ দিয়ে বড় করা, নাসিং কলেজকে আরও বড় করা এবং এখানে আরও ভালো মানের স্কুল কলেজ করা। যাতে আমাদের বাচ্চাদেরকে নীলফামারী শহর থেকে বাইরে যেতে না হয় (লেখাপড়ার জন্য)।

এছাড়া শিল্পের ওপর বেশি জোড় দেব, ইপিজেডকে (উত্তরা ইপিজেড) এক্সটেনশন করার জন্য, বেজাকে কার্যকরী করার জন্য। বিসিক শিল্প নগরী যদি করা যায়, এটার মাধ্যমে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বেকার সমস্যা দূর করার পসিবিলিটি আছে। নীলফামারীতে অনেক স্পেস আছে, এনাফ জায়গা আছে যেখানে এটা আমরা করতে পারবো। কৃষিভিত্তিক প্রসেসিং জোন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। 

আমাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার, রোড নেটওয়ার্ক খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বিনোদনের জায়গা করতে হবে 
বাচ্চাদের জন্য। এখানে টেক্সটাইল মিলের একটি সরকারি জায়গা আছে। এই জায়গাটিকে আমরা কিভাবে কাজে লাগাতে পারি যেমন, এখানে আমরা একটি আইটি পার্ক করতে পারি কিনা। এই ইনফ্রাকটেকচার (টেক্সটাইল মিলের) কাজে লাগিয়ে এখানে ব্রডব্যান্ড ফ্যাসিলিটি দিয়ে আইটি রিলেটেড কোনো কলেজ বা টেকনোলজি, ইনিস্টিটিউট খুলতে পারি কিনা সে ব্যাপারে চিন্তা করবো ইশনাল্লাহ।

বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

শাহরিন ইসলাম চৌধুরী : আমরা উকিল সাহেবদের দিয়ে (দলীয় আইজীবী) একটি টিম করে দিয়েছি। এই টিম প্রতিটি ইউনিয়নে সেন্টার কমিটি এবং নির্বাচনী কমিটিকে আচরণবিধির বিষয়ে গাইড দিচ্ছে।

বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

শাহরিন ইসলাম চৌধুরী :  এ বিষয়ে আমার একক কোনো অবস্থান থাকবে না। আমার দলের অবস্থান যেটা হ্যাঁ এর পক্ষে বলেছে, আমাকে দলের পক্ষেই থাকতে হবে।

বাসস : আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

শাহরিন ইসলাম চৌধুরী : আমার প্রত্যাশা যে একেবারেই একটা নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যেখানে সকলের জন্য লেভেল প্রেয়িং ফিল্ড থাকবে। অসম কোনো ক্ষেত্র আমরা চাই না। দেশে যতবার নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, ততবার বিএনপি বিজয়ী হয়ে এসেছে। সেটাই আমাদের কাম্য। আমাদের কোনো ফেভারের প্রয়োজন নেই, আমাদের ফেভার একমাত্র নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন সবার জন্য।

জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-২ আসনটি। এ কারণে জেলার সার্বিক উন্নয়নে খুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আসনটির। এ আসনে রয়েছে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। রয়েছে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উত্তরা ইপিজেড, টেক্সটাইল মিল, মেডিক্যাল কলেজসহ নানা সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

এবারের নির্বাচনে আসনটির ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৫৩ জন, পুরুষ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। গেল নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটার বেড়েছে ২৬ হাজার ৯৯৪ জন। কেন্দ্র সংখ্যা ১৩৫টি।

এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর মো. আলফারুক আব্দুল লতীফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মো. হাসিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মো. সারোয়ারুল আলম বাবু ও বিএনএফ এর মো. সিরাজুল ইসলাম।