শিরোনাম

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে দুটি বোমা হামলা হয়েছে। এতে অন্তত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কট্টর ডানপন্থী এই নেতা শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালি-তে শপথ নেওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ‘কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই মাদক-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ফার্ক গেরিলা গোষ্ঠীর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালির কাছে একটি মহাসড়কের টোল বুথ ধ্বংস করে। এতে দুই নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হয়।
সান্তান্দের দে কিলিচাও পৌরসভার পান-আমেরিকান মহাসড়কের ওই টোল বুথটি তখন নির্মাণাধীন ছিল। এলাকাটিতে কলম্বিয়ার সবচেয়ে কাক্সিক্ষত গেরিলা কমান্ডার ইভান মোরোদিসকোর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।
মোরোদিসকো এমন একটি গেরিলা গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন, যারা ২০১৬ সালে কলম্বিয়া সরকার ও ফার্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দে লা এসপ্রিয়েলা বোমা হামলার নিন্দা জানান। এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘দেশের অবকাঠামোর ওপর হামলা মানে দেশের অগ্রগতির ওপর হামলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এর জন্য দায়ী, তাদের উদ্দেশে আমি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছিÑতাদের জন্য কোনো আশ্রয়, কোনো ছাড় এবং কোনো দায়মুক্তি থাকবে না।’
-‘শাস্তি এড়াতে পারবে না-
প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সেসার বিভাগে শনিবার ভোরে আরেকটি বোমা হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পুলিশ স্টেশনে আঘাত হানলে ওই কর্মকর্তা নিহত হন।
হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে, প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা বলেছেন, যারা এর জন্য দায়ী, তারা ‘শাস্তি এড়াতে পারবে না।’
প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসা দে লা এসপ্রিয়েলা তাঁর কঠোর ও সংঘাতমুখী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তিনি প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের প্রতি নিজের প্রশংসার কথা জানিয়েছেন। এখন কলম্বিয়ায় সক্রিয় গেরিলা ও মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
বুকেলের মতো বড় আকারের কারাগার নির্মাণ এবং কলম্বিয়ায় সক্রিয় গেরিলা ও মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দে লা এসপ্রিয়েলা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমর্থন নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
দেশটিতে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতার সময়েই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের এক দশক পরও কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এসব গোষ্ঠী বিশ্বের অন্যতম প্রধান কোকেন উৎপাদন ও পাচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
টোল বুথের পাশের এলাকায় বসবাসকারী দমকলকর্মী রবার্তো সান্দোভাল এএফপিকে বলেন, বোমা হামলার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছি। পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ এবং সবাই চিন্তিত।’
এলাকার অন্য একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ফলে জানালার কাচ ভেঙে ৬৮ বছর বয়সী গৃহিণী সোনিয়া জাপাতার বিছানার ওপর ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি খুবই উদ্বিগ্ন, খুব ভয় লাগছে।’