বাসস
  ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৯

শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৬, আহত শতাধিক

ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দাঙ্গায় সাতজন কারারক্ষীসহ অন্তত ২৬ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। সোমবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির কারাগারগুলোতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাঙ্গার ঘটনা।

কলম্বো থেকে পুলিশের বরাতে এএফপি জানায়, রাজধানী কলম্বোর উত্তরে নেগোম্বো কারাগারে দুটি মাদকচক্রের বন্দিদের মধ্যে রোববার রাতে সংঘর্ষের পর গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতদের নেগোম্বো হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানান, সরকারি এ হাসপাতালে ২৩টি মরদেহ রাখা হয়েছে। এছাড়া নেগোম্বো কারাগারের শতাধিক আহত বন্দি ও কারারক্ষী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কেউ ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং গুরুতর জখম নিয়ে এসেছেন।’

তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত ১৮ জনকে কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরে বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে পৌঁছেছে।

তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি গোষ্ঠীকে পৃথক রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

কলম্বোতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তারা বন্দি ছিলেন, নাকি অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ মুহূর্তে সেটি আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ মারা গেছেন, আর সেটিই গভীরভাবে মর্মান্তিক। এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না।’

মন্ত্রী জানান, কয়েক হাজার বন্দি থাকা নেগোম্বো কারাগারে রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের অংশে থাকা নারী বন্দিদের একটি দল ছাদে উঠে তাদের মুক্তির দাবি জানায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ায় কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন।

সরকার এ ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি

কারা বিভাগের মুখপাত্র চামিন্দা গাজানায়েকে বলেন, এ দাঙ্গায় কোনো বিদেশি বন্দি ক্ষতিগ্রস্ত হননি।

গত বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৬ কেজি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘কুশ’ গাঁজাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ২২ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নারী বর্তমানে নেগোম্বো কারাগারে আটক রয়েছেন।

গাজানায়েকে জানান, সোমবার সকালে কয়েকজন বন্দি কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। একই সময়ে অন্য একটি দল সকালের খাবারের সময় সশস্ত্র কারারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা প্রধান ফটকের দিকে ছুটে গিয়েছিল, তবে আমরা তাদের প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছি।’

কারাগারের বাইরে পুলিশ ও কমান্ডো মোতায়েন করা হলেও তাদের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়নি। তারা কেবল কারাগারের চারপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

এএফপির একজন আলোকচিত্রী দেখেছেন, কারা বিভাগের বাসে করে কয়েকজন বন্দিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, তাদের দেশের অন্যান্য কারাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

সোমবার নেগোম্বো কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের বিশাল ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিমানবাহিনী ড্রোন ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। এর আগে বন্দিরা কয়েকজন কারারক্ষীর কাছ থেকে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সোমবার দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সাতজন কারারক্ষী নিহত হন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার সকালে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।’

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কোভিড-১৯ মহামারির সময় শ্রীলঙ্কার আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন বন্দি নিহত এবং ১১৭ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর অতিরিক্ত ভিড় কমাতে সরকার শত শত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন কারাগারে মোট ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি ছিলেন, যা কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।