বাসস
  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৩

প্রাণঘাতী বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার পর হামলাকারীদের খুঁজছে পাকিস্তান

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অস্থির বেলুচিস্তান প্রদেশে ধারাবাহিক সমন্বিত বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার ঘটনায় রোববার হামলাকারীদের সন্ধানে অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। সরকার জানিয়েছে, ১২০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির পর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

কোয়েটা থেকে এএফপি জানায়, পাকিস্তান, সামরিক বাহিনীর হিসাবে, শনিবার জঙ্গিরা ব্যাংক, কারাগার ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যা করে। হামলার স্থানগুলোর মধ্যে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ প্রায় এক ডজন এলাকা এখনো ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সেনারা সেখানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, এসব অভিযানে অন্তত ৯২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, এক উপ-জেলা প্রশাসককে অপহরণ করা হয়েছে।

প্রদেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে।

একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠার পর সাধারণত ব্যস্ত কোয়েটা শহর রোববার ছিল নীরব। প্রধান সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল এবং আতঙ্কে মানুষ ঘরের ভেতর অবস্থান করছে। কিছু সড়কে ধ্বংসপ্রাপ্ত ধাতব অংশ ও বিকৃত যানবাহন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

কোয়েটার ৩৯ বছর বয়সী দোকানদার হামদুল্লাহ, যিনি এক নামেই পরিচিত, এএফপিকে বলেন, ‘যে কেউ ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ফিরে আসার নিশ্চয়তা নেই। সব সময়ই আশঙ্কা থাকে, সে অক্ষত ফিরে আসবে কি না।’

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তারা ‘পরিশোধন অভিযান’ চালাচ্ছে।

শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ডের উসকানিদাতা, হামলাকারী, সহায়তাকারী ও মদদদাতাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

প্রদেশের সবচেয়ে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।

শনিবারের হামলাগুলো এমন এক সময় ঘটল, যখন তার আগের দিনই সামরিক বাহিনী প্রদেশে পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ জন বিদ্রোহীকে হত্যার দাবি করেছিল।

আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তঘেঁষা খনিজসমৃদ্ধ বেলুচিস্তানে কয়েক দশক ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের সঙ্গে লড়াই করছে পাকিস্তান। সেখানে প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানিদের ওপর সশস্ত্র হামলা হয়।

প্রচুর অনাবিষ্কৃত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ বেলুচিস্তান শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রায় সব সূচকেই দেশের অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রদেশে কর্মরত অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানিদের পাশাপাশি বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে, যাদের তারা প্রদেশের সম্পদ লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

গত বছর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যা দুই দিনব্যাপী অবরোধে রূপ নেয় এবং এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়।