বাসস
  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৩

শেখ হাসিনা-টিউলিপের দুর্নীতির দুই মামলার রায় আগামীকাল

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। কোলাজ : বাসস

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলার রায় আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত বেলা ১১ টার দিকে এ রায় ঘোষণা করবেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর একটি সূত্র বাসস'কে জানায়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শেখ হাসিনাসহ অপর আসামিদের দুই মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এদিন বেলা ১১টার দিকে বিচারক এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় শেখ হাসিনা-টিউলিপসহ ১৮ জন করে ৩৬ জন আসামি। এরমধ্যে  গত ১৮ জানুয়ারি রাষ্ট্র এবং আসামি পক্ষের যুক্তিউপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনা-টিউলিপ-রাদওয়ানের মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম। 

অপর দিকে গত ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্র এবং আসামি পক্ষের যুক্তিউপস্থাপন শেষে শেখ হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনার  মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন একই আদালত।

শেখ হাসিনা-টিউলিপ-রাদওয়ানের মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান। ওই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলায় আদালতে ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক শেখ শহিদুল ইসলাম, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

শেখ হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনার  মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরো দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন আফনান জান্নাত কেয়া। মামলার বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

এর আগে, গত বছরের ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম দুই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।