শিরোনাম

ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্র উৎসব থাইপুসাম উদযাপনে সমাগত কয়েক লাখ ভক্তের রঙিন আয়োজনে প্রাণ ফিরে পায় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বাইরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাতু কেভস।
মালয়েশিয়ার বাতু কেভস থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
বহুজাতির দেশ মালয়েশিয়ায় থাইপুসাম বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। মুসলিম-প্রধান এই দেশে প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে জাতিগত ভারতীয়ের সংখ্যা প্রায় সাত শতাংশ।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এই দিনে দেবী পার্বতী তার পুত্র ভগবান মুরুগানকে অসুর দমনের জন্য শক্তিশালী বর্শা প্রদান করেছিলেন। সেই ঘটনার স্মরণে অনেক ভক্ত শরীরে অলংকৃত হুক ও শলাকা ধারণ করেন। অনেকে দুধের পাত্র নিবেদন করেন।
ভারত, সিঙ্গাপুরসহ যেসব অঞ্চলে তামিল হিন্দুদের বসবাস বেশি, সেখানেও থাইপুসাম উদযাপিত হয়।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে উৎসবের মূল আয়োজন হয়ে আসছে কুয়ালালামপুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বাতু কেভস কমপ্লেক্সে।
এখানে রয়েছে ৪৩ মিটার উচ্চতার বিশাল মুরুগান মূর্তি, এটি বিশ্বের বৃহত্তম মুরুগান মূতিগুলোর অন্যতম। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, উৎসব চলাকালে প্রায় ২৫ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে।
মন্দিরে পৌঁছতে ২৭২টি রঙিন সিঁড়ির ধাপ ঘিরে ভিড় করেন দর্শনার্থী ও ভক্তরা।
দুধের পাত্রসহ নানা নিবেদন বহনকারী ভক্তরা খালি পায়ে ওই ২৭২ ধাপ বেয়ে ওপরে ওঠেন। অনেকে ‘কাভাদি’ নামে পরিচিত ভারী ও জটিল ধাতব কাঠামো বহন করেন।
কাভাদির ওজন কখনো-কখনো ১০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হয়। এগুলো সাধারণত ধারালো ধাতব শলাকার মাধ্যমে শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
কাভাদি বহনকারী ভক্তরা ঢাক-ঢোলের তালে তালে, ধর্মীয় নাম-কীর্তন ও ভক্তিগীতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৃত্যের ভঙ্গিতে এগিয়ে যান।
সেলাঙ্গরের ক্লাং এলাকার ৩৯ বছর বয়সী এস. জেয়াসাঙ্গার এএফপিকে বলেন, ‘আমি আজ ভোর ৩টায় মন্দিরে এসেছি। গত ৩০ বছর ধরে নিয়মিত থাইপুসামে অংশ নিচ্ছি।’
নিকটবর্তী পেতালিং জায়ার ২৬ বছর বয়সী শেমা নান্থিনি বলেন, এই উৎসব তার জীবনে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
তিনি বলেন, ‘থাইপুসাম আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছি। ভগবান মুরুগানের কৃপায় আজ আমি সফল।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করি। আজ এখানে এসেছি ভগবান মুরুগানকে কৃতজ্ঞতা জানাতে।’