বাসস
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৯

ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ার নির্দেশ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) :  ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্থনৈতিক বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সশস্ত্র ‘দাঙ্গাকারীদের’ পার্থক্য করার কথা বলেন।

প্যারিস থেকে এএফপি এ খবর জানায়। 

মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রা ধসের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভের ১১তম দিনে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকারে প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নন; সেই দায়িত্বে আছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

তবে বুধবার পেজেশকিয়ানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযম দেখানোর নির্দেশ দেওয়া থেকে বোঝা যায়, সংকট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সরকার।

ক্যাবিনেট বৈঠকের পর বার্তা সংস্থা মেহর প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাফর কায়েমপানাহ বলেন, পেজেশকিয়ান ‘বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন’।

তিনি বলেন, ‘যারা আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি ও মাচেটি বহন করে এবং পুলিশ স্টেশন ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তারা দাঙ্গাকারী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের আলাদা করতে হবে।’

নরওয়ে-ভিত্তিক এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) মঙ্গলবার জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী পাঁচজন রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি ঘোষণার বরাতে ইরানি গণমাধ্যমে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং মঙ্গলবার গুলিতে নিহত এক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

ইরানি সেনাবাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন জেনারেল আমির হাতামি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান বাইরের কোনো হুমকি ‘জবাব ছাড়া’ সহ্য করবে না।

ফারস বার্তা সংস্থার বরাতে তিনি বলেন, ‘শত্রু যদি ভুল করে, তবে ইরানের জবাব গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়েও কঠোর হবে।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

এখনো পর্যন্ত এই বিক্ষোভ ২০২২ু২৩ সালের আন্দোলনের মাত্রায় পৌঁছায়নি; ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরের ব্যাপক গণআন্দোলনের তো নয়ই।

তবে অর্থনৈতিক বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছে, বিশেষ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নেতৃত্বের কাছ থেকে।

রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খুব নিবিড়ভাবে দেখছি। তারা যদি আগের মতো মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খুব কঠোর আঘাত আসবে।’

এদিকে নেতানিয়াহু ইসরাইলের মন্ত্রিসভাকে বলেন, ‘আমরা ইরানি জনগণের সংগ্রামের সঙ্গে এবং স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।’

গত জুনে যুদ্ধ শুরু হয় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় নজিরবিহীন ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রও স্বল্প সময়ের জন্য ওই হামলায় অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।

ইরানে সর্বশেষ বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর, তেহরানের একটি মোবাইল ফোন বাজারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে।

এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অর্থনীতির কেন্দ্রস্থল রাজধানীর গ্র্যান্ড বাজারসহ আরও কয়েকটি শহর ও নগরে, বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে।

মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরুর পর প্রথমবারের মতো গ্র্যান্ড বাজারে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। একটি ঘটনায় গ্যাস হাসপাতালের ভেতরেও ঢুকে পড়ে।

ইএসএনএ সংবাদ সংস্থা তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় অব মেডিকেল সায়েন্সেসের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, ‘সিনা হাসপাতালের সংলগ্ন গলিতে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়।’

সিনা হাসপাতালটি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং গ্র্যান্ড বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি অস্বীকার করেছে যে হাসপাতাল লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

এদিকে বুধবার রাজধানীর অন্য এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত ছিল বলে মনে হয়েছে।

এএফপি প্রতিবেদকরা দেখেছেন, শহরের উত্তর-দক্ষিণ জুড়ে বিস্তৃত প্রধান সড়ক ভালি-আসর এলাকায় দোকানপাটে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা চলছিল।