বাসস
  ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫১
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৭

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিমান হামলা

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসব্যাপী হুমকির পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সিরিজ বিমান হামলা হয়েছে।

কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর সামরিক আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলেছে ভেনেজুয়েলা। শনিবার ভোররাতে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ফক্স নিউজ ও সিবিএস নিউজসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে আশঙ্কা ছিল।

তবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ২টা নাগাদ শহরের ওপর দিয়ে বিমান উড়ার শব্দের সঙ্গে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

রাজধানীর উত্তরে লা গুয়াইরাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেখানেই কারাকাসের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর অবস্থিত।

বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকার কর্তৃক সংঘটিত চরম গুরুতর সামরিক আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এ ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।

বামপন্থী নেতা গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, বিশ্ববাসীকে সতর্ক করছি— তারা ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে।

হামলা শুরু হওয়ার পর কারাকাসজুড়ে চরম বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

অনেক মানুষ গভীর রাতে জানালা ও ছাদে ছুটে গিয়ে কী ঘটছে তা বোঝার চেষ্টা করেন।

পূর্ব কারাকাসে বসবাসকারী ২৯ বছর বয়সি যোগাযোগকর্মী ফ্রান্সিস পেনা এএফপিকে জানান, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তার বান্ধবী তাকে জাগিয়ে বলেন, বোমা পড়ছে।

পেনা বলেন, আমি বিস্ফোরণ দেখতে পাচ্ছি না, তবে বিমানের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। আমরা ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র—পাসপোর্ট, কার্ড, নগদ টাকা, মোমবাতি, এক সেট কাপড় ও খাবার একটি ব্যাগে গুছিয়ে নিতে শুরু করেছি।

এর আগে ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেন, যা তিনি প্রথমে মাদক পাচারবিরোধী অভিযান হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে তিনি একাধিকবার ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে হামলার হুমকি দেন।

গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একাধিক নৌযানে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, এসব হামলায় অন্তত ১০৭ জন নিহত হয়েছে।