বাসস
  ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩১
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৭

আদালতে মাদুরোর দাবি: ‘আমি নির্দোষ, আমিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট’

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কারাকাসে নিজ বাড়ি থেকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার দুই দিন পর নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

আদালতে বিচারকের উদ্দেশে ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি।’
নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

আদালতে প্রবেশের সময় মাদুরোর পরনে ছিল শার্ট ও প্যান্ট। দোভাষীর মাধ্যমে স্প্যানিশ ভাষায় তিনি বলেন, ‘আমি ভেনিজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। গত ৩ জানুয়ারি শনিবার থেকে আমাকে এখানে অপহরণ করে আটক রাখা হয়েছে। কারাকাসে আমার নিজের বাড়ি থেকেই আমাকে আটক করা হয়।’

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তাদের দুজনকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আদেশ দেন এবং আগামী ১৭ মার্চ শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

গত শনিবার ভোরে ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে মার্কিন কমান্ডোরা এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে। যুদ্ধবিমান ও শক্তিশালী নৌবহরের সহায়তায় চালানো ওই অভিযানে আকাশপথেও হামলা চালানো হয়েছিল।

মাদুরোকে আটকের পর তার সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে কারাকাসের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ মাদুরোর সমর্থনে মিছিল করেছেন।

এদিকে, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সমালোচনা করেছেন। তিনি রদ্রিগেজকে ‘নির্যাতন, নিপীড়ন ও মাদক পাচারের অন্যতম কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মাচাদো গত মাসে দেশ ছাড়লেও দ্রুতই ভেনেজুয়েলায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।

অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে। বিশেষ করে দেশটির বিশাল তেল সম্পদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় নতুন কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। 

তিনি বলেন, ‘আগে দেশটিকে ঠিক করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ ভোট দেওয়ার অবস্থায় নেই।’

তবে ট্রাম্পের মিত্র ও মার্কিন হাউজ স্পিকার মাইক জনসন মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত।

২০১৩ সালে হুগো চাভেজের মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় বসেন সমাজতান্ত্রিক নেতা মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, মাদুরো নির্বাচনে কারচুপি ও বিরোধীদের দমনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩ কোটি মানুষ এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রদ্রিগেজ যদি তেলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেন, তবে তার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত। রদ্রিগেজও ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘সহযোগিতা’ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ব্রায়ান নারাঞ্জো ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, পরিস্থিতি ভাল হওয়ার আগে আরও খারাপ হতে পারে। 

তিনি রদ্রিগেজকে সতর্ক করে বলেন, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে তার নিজের লোকেরাই তার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভেনেজুয়েলা ছাড়াও কিউবা ও গ্রিনল্যান্ডের বিষয়েও ট্রাম্পকে কঠোর অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘনিয়ে এসেছে এবং গ্রিনল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত।

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ব্রায়ান ফিনুকেন মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। কারাকাসের ওই অভিযানে ৩২ জন কিউবান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হাভানা। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা সরাসরি এই অভিযানে অংশ নেন।