শিরোনাম

ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এইচপিভি টিকার শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিভাগে একটি ‘ডিভিশনাল অ্যাডভোকেসি কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ঢাকা বিভাগ। ইউনিসেফের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকা একীভূতকরণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা।
কর্মশালায় জানানো হয়, সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে নিয়মিত টিকাদান সেশনের মাধ্যমে এইচপিভি টিকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ঢাকা বিভাগে এবং ২০২৪ সালে অন্যান্য বিভাগে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের এই টিকা প্রদান করা হয়। এখন থেকে ১০ বছর বয়সী (১০ বছর ০ দিন হতে ১০ বছর ১১ মাস ২৯ দিন) সকল কিশোরী নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমেই এই টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে টিকাদান কর্মীরা নিজ নিজ ওয়ার্ডের ১০ বছর বয়সী কিশোরীদের চিহ্নিত করে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে ১ ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান নিশ্চিত করবেন। এছাড়া ভ্যাক্স-ইপিআই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং স্মার্ট হেলথ বিডি, ই-ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
টিকা অপচয় রোধে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে দুজন বা তার বেশি কিশোরী উপস্থি হলে টিকা ভায়াল খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং ঢাকা বিভাগের সিভিল সার্জনগণসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী স্টেকহোল্ডাররা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি সফল করার কৌশল প্রণয়ন ও তা উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই টিকাদান কার্যক্রমকে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।