বাসস
  ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭:০১

বিএমইউতে ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাব উদ্বোধন

বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী আজ বিএমইউ ফার্মাকোলজি বিভাগে হিট প্রোজেক্ট-১২২৫৬-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাব উদ্বোধন করেন। ছবি : বিএমইউ

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগে হিট প্রোজেক্ট-১২২৫৬-এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।

বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী আজ বুধবার প্রধান অতিথি থেকে এই ল্যাবের উদ্বোধন করেন। 

এ সময় ইন-সিলিকো কম্পিউটেশনাল ফার্মাকোলজি গবেষণার জন্য স্থাপিত দু’টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ার্কস্টেশনও উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনকালে উপাচার্য, নতুন ওষুধ আবিষ্কার, বায়োইকুইভ্যালেন্স গবেষণা এবং আধুনিক কম্পিউটেশনাল ফার্মাকোলজিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন দুর্বার আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিট প্রোজেক্ট-১২২৫৬-এর সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলোরা শারমিন।

উপাচার্য বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণায় ইন-সিলিকো কম্পিউটেশনাল ফার্মাকোলজির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ড্রাগ-রিসেপ্টর ইন্টারঅ্যাকশন, ড্রাগ, ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন বিশ্লেষণ, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং উচ্চতর গবেষণা, বিশেষ করে পিএইচডি গবেষণায় এই ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, ফার্মাকোলজি বিভাগের মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কার, ওষুধের বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি এবং বিভিন্ন গবেষণায় বিভাগটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

উদ্বোধনের পর উপাচার্য বিভাগের গবেষণাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি-ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি এবং হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। গবেষণাগারের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি গবেষণার পরিধি আরও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

ডা. ইলোরা শারমিন জানান, অত্যাধুনিক এসব যন্ত্রের মাধ্যমে বিভাগে থেরাপিউটিক ড্রাগ মনিটরিং, বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইউনিট এবং টক্সিকোভিজিল্যান্স-সংক্রান্ত সেবা চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। এসব উদ্যোগ দেশের ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি গবেষণা ও রোগীসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে উপাচার্য হিট প্রোজেক্ট-১২২৫৬-এর আওতায় পরিচালিত গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ক্লিনিক্যাল গবেষণা পরিচালনায় এ ধরনের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাবের উদ্বোধন এবং গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ফার্মাকোলজি বিভাগের গবেষণা অবকাঠামো, কম্পিউটেশনাল গবেষণা সক্ষমতা এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ এবং তা শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফাতেমা জোহরা, সহকারী অধ্যাপক ডা. শরদিন্দু কান্তি সিংহ, সহকারী অধ্যাপক ডা. নাজিরা মাহমুদ বাধন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও উপাচার্যের একান্ত সচিব-২ মো. লুৎফর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আলমগীর হোসেন, সায়েন্টিফিক অফিসার ড. হাবিবা আক্তার ভূঁইয়াসহ বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।