শিরোনাম

ঢাকা, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত তাপপ্রবাহে ইউরোপে ২ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সাম্প্রতিক এক তাপপ্রবাহে কয়েকটি দেশে মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে।
বার্লিন থেকে এএফপি জানায়, ডব্লিউএইচও’র ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হান্স হেনরি ক্লুগে বার্লিনে এক অনুষ্ঠানে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশকালে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন স্পষ্ট এবং তাৎক্ষণিক বিপদের রূপ নিয়েছে, আর এর সবচেয়ে দ্রুত ও প্রাণঘাতী প্রকাশ হলো চরম তাপ।’
তিনি বলেন, ‘তাপ একটি নীরব ঘাতক, কিন্তু এটি অনিবার্য নয়।’
ক্লুগে জানান, প্রবল তাপ বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের এবং হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক এবং আগের রোগগুলোর জটিলতা বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, এই ২ লাখ মৃত্যুর মধ্যে অধিকাংশই ‘সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য’ ছিল এবং এটি ‘হিমশৈলীর চূড়ামাত্র’, কেননা এতে আরও লাখ লাখ মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া আরও তীব্র ও ঘনঘন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা।
ক্লুগে বলেন, ইউরোপ ‘অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।’
ডব্লিউএইচও’র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষকে কার্যকর তাপ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, শহর পরিকল্পনায় সবুজ এলাকা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ কমাতে হবে।
অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, বয়স্কদের পানি পান নিশ্চিত করতে সামাজিক সেবার মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা এমনভাবে নির্ধারণ করা যাতে তারা মধ্যাহ্নের প্রচ- রোদ এড়িয়ে চলতে পারেন।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাপ থেকে বাঁচার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ক্লুগে বলেন, ‘এটি কোনো কাঠামোগত সংকটের মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়’, এর জন্য প্রয়োজন ‘সমন্বিত, শক্তিশালী এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।’
মে মাসের শেষ দিকে পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ড-ভাঙা প্রাথমিক গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দেখা দেয়, যাকে জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল ‘জলবায়ু সংকটের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের নির্মম স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর মে মাসে দেশটিতে ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ তাপ-সম্পর্কিত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।