বাসস
  ১৯ মে ২০২৬, ২১:০৩

দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির রোগে ভুগছেন

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছেন। প্রতি ৭ জন রোগীর ৫ জন মহিলা, আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশই চিকিৎসা সেবার আওতায় নেই। 

আগামী ২৫ মে ‘বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ও আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা জানান। বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাইজে ছোট, কাজে বড় থাইরয়েড গ্রন্থি। থাইরয়েড সমস্যা, জটিলতা ও রোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করাতে পারলে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সুস্থ, স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা সম্ভব কিন্তু বিলম্ব হলে মানবদেহের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়, প্রাণহানিরও শঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো-দেশের কোটি কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যা, জটিলতা ও রোগে আক্রান্ত হলেও তারা জানেন না যে তাদের থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা রোগ রয়েছে। 

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, থাইরয়েড মানবদেহের একটি ভাইটাল অর্গান। থাইরয়েডজনিত সমস্যা ও রোগ শনাক্তকরণে এবং চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও অ্যালায়েড সায়েন্সেস বিষয়গুলো বিরাট অবদান রাখছে। 

বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন টিথ্রি, টিফোর (টি৩, টি৪) নিঃসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের বিপাক হার, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রন্থিতে জটিলতা দেখা দিলে শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

তিনি বলেন, ‘মা-বাবার থাইরয়েডজনিত সমস্যা থাকলে সন্তানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। প্রতি ৭ জন রোগীর ৫ জনই মহিলা। আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশই চিকিৎসা সেবার আওতায় নেই। প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে ১ জন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। তবে রোগের শুরুতে থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, থাইরয়েড সমস্যা ও রোগ সম্পর্কে গণমানুষকে জানাতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি নিতে হবে এবং এই বিষয়টি প্রাথমিক হেলথ কেয়ারেও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সাথে সাথে থাইরয়েডজনিত রোগ ও সমস্যার চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণা কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যেতে হবে। 

বিএমইউ-এর নিনমাসে অধ্যাপক ডা. কামালউদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফওজিয়া মোসলেম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ করিম। 

প্যানেল এক্সপার্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম, বিএমইউর নাক কান গলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইনমাস এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।
  
সেমিনারে ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম সাইফুদ্দিন।
 এছাড়াও ‘স্ট্যান্ডারাইজড রিপোর্টিং ফরম্যাট অফ থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড : এ অ্যাপ্রোচ ফর থাইরয়েড নোডিউল ইভালুয়েশন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সহ-সভাপতি ও ইনমাস সোহরাওয়ার্দী-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. জীনাত জাবীন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন থাইরয়েড সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা। 

এদিকে, বিএমইউ-এর নিনমাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে থাইরয়েড রোগ সংক্রান্ত গবেষণাদির প্রাপ্ত ফলাফলের সারমর্ম সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। 

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সহ-সভাপতি ও বিএমইউ-এর নাক-কান গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার, বিএমইউ-এর মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লব, এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) ও বিএমইউ-এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমীন ফেরদৌস, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির পাবলিকেশন সেক্রেটারি সহযোগী অধ্যাপক ডা. পাপড়ি মুৎসুদ্দী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।