শিরোনাম

ঢাকা, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এই জরিপের মাধ্যমে রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা সম্ভাব্য ‘ডেঙ্গু হটস্পট’ চিহ্নিত করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন নগরজীবনের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি। তাই রোগের বিস্তার হওয়ার আগেই এর উৎস শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করছি। কোথায় এডিস মশার প্রজনন বেশি হচ্ছে, কোন এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে- তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অঙ্কুরেই দমন করা সম্ভব হবে।’
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এই ১২ দিনব্যাপী জরিপে ডিএসসিসি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নিচ্ছেন।
ডাটা সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কবো টুলবক্স’ ব্যবহার করা হচ্ছে। জরিপ শেষে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কন্টেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে মাঠকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘এটি মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন। কোনো এলাকায় না গিয়ে মনগড়া রিপোর্ট দেওয়া হলে তা মানুষের জীবন নিয়ে খেলার শামিল হবে। দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’
উদ্বোধনের পর প্রশাসক ফুলবাড়িয়া মোড়স্থ কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালে চলমান জরিপ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে জমে থাকা পানি, বর্জ্য এবং এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেখানে লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, জরিপ চলাকালে যেসব স্থানে এডিসের লার্ভা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ পাওয়া যাবে, সেখানে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।