বাসস
  ০৮ মে ২০২৬, ১৮:২৭

হৃদরোগ এখন নীরব মহামারি : বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ৮ মে, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশে হৃদরোগ নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, স্থূলতা ও ব্যায়ামের অভাবকে হৃদরোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। 

আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান প্রবর্তক সংঘ আয়োজিত ‘হার্ট অ্যাটাক: প্রতিকার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। 

প্রবর্তক সংঘের মাস্টারদা সূর্যসেন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে চিকিৎসক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। 

অনুষ্ঠানে হৃদরোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রবর্তক সংঘ- চট্টগ্রামের সভাপতি শ্রী ইন্দু নন্দন দত্তের সভাপতিত্বে সোিমনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 

উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। 

সেমিনারে বিশেষজ্ঞ বক্তারা বলেন, হৃদরোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগী শারীরিক পরিশ্রমের সময় বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা অনুভব করেন। অনেক সময় বুক ভারী হয়ে আসে এবং বাম হাত, কাঁধ কিংবা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। কারও কারও ক্ষেত্রে পেটের ওপরের অংশেও অস্বস্তি দেখা দেয়। 

চিকিৎসকদের মতে, এসব উপসর্গকে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা করেন। অথচ এগুলোই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ। 

তিনি বলেন, রক্তনালিতে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হওয়াই হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল এ ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বর্তমানে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হার্টের ব্লক শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, হৃদরোগ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যা বাড়ছে। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে মেজবানসহ অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার প্রবণতাও হৃদরোগ বৃদ্ধির একটি কারণ। অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মনজুর মোর্শেদ, সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. আশীষ দে, কার্ডিওলজিস্ট ডা. এস সি ধর, অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক চৌধুরী প্রমুখ।