শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জুন, ২০২৬ (বাসস): সাবেক আইজিপি বেনজীরের কাঁধে ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায় রয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, বেনজীর আহমেদ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেই সময়ে মোট ১৫ জন গুম এবং ২০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এর আগে, র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত। এই পাঁচ বছরে গুমের সংখ্যা ছিল ২৫৫ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৪৫০ জনে।
বেনজীরের দায়িত্ব পালনকালে মোট ২৭০টি গুম ও ১৬৫০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান থেকে এই চিত্র পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট।
এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে অর্থাৎ নির্বাচনের বছরে সর্বোচ্চ ৩৫৪টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। একই বছর গুমের শিকার হন ৩৪ জন। সর্বোচ ৯৭টি গুমের ঘটনা ঘটে ২০১৬ সালে। ওই সময়টাতে বেনজীর আহমেদ র্যাবের সর্বোচ্চ দায়িত্বে ছিলেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীরও ছিলেন। তবে, এই নিষেধাজ্ঞার পরও ৯ মাস তিনি র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। সেসময় অন্তত ১০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।
গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।
এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক পৃথক চারটি মামলার দায়ের হয়।
গতকাল (রোববার) দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটিকে পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
'বাংলাফ্যাক্ট' প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি'র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম। তারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।