বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৪৬

কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতের মাধ্যমে সম্পদে পরিণত হতে পারে ট্যানারি বর্জ্য

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বাসস) : চামড়া খাতে সঠিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ট্যানারি বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর এসএমই ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কিং কমিটির (এসএমইডিডব্লিউসি) ১১তম সভায় বক্তারা আজ এসব কথা বলেন।

শিল্প সচিব আবদুন নাসের খান এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক যৌথভাবে সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় এলডিসি উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় চামড়া খাতকে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শিল্প সচিব আবদুন নাসের খান।

তিনি বলেন, সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের (এসটিআইই) সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (সিইটিপি) বর্তমান ত্রুটিগুলো সংশোধন এবং সার্বিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে সিইটিপি রয়েছে। সাভারেও একই ধরনের সুবিধা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। চট্টগ্রামে সিইটিপির বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা আবশ্যক।

সভায় বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রণীত ‘ট্যানারি সলিড ওয়েস্ট (টিএসডব্লিউ) ব্যবস্থাপনা: এসএমই পর্যায়ে রপ্তানি উন্নয়নে নীতিগত সহায়তা’ শীর্ষক একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করেন।

নীতিপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাভার ট্যানারি এস্টেটে প্রতিদিন প্রায় ২৩০ টন কঠিন বর্জ্য (টিএসডব্লিউ) উৎপন্ন হয়। যা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। টিএসডব্লিউ থেকে শিল্প জেলটিন, প্রোটিন মিল, লেদার বোর্ড ও জৈব সার তৈরির কৌশলগত উপস্থাপনায়।সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

মূল নীতিগত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে-জাতীয় শিল্পনীতিতে টিএসডব্লিউ উপজাত পণ্যকে সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াকরণকারীদের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশগত ছাড়পত্রের ব্যবস্থা চালু করা, মানসম্মত বর্জ্য পৃথকীকরণ  প্রোটোকল প্রতিষ্ঠা করা, এবং জাতীয় রপ্তানি প্রস্তুতি বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক গ্রিন ফাইন্যান্সিং ও মান সনদায়ন সহায়তা প্রদান করা।

সিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন এম চৌধুরী বলেন, সিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আমরা চট্টগ্রামের ট্যানারিগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করব এবং তাদের ফিডব্যাক সংগ্রহের চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্যানারি তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আমাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে। বর্জ্য থেকে পণ্য তৈরির ধারণা বৈশ্বিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং বাংলাদেশের এই সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএলইটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ক্রোমিয়াম দূষণ কমিয়ে ট্যানারি পণ্যের কারিগরি মান নিশ্চিতের আহ্বান জানান। 

ডিটিআইইডব্লিউটিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম শাহনেওয়াজ জানান, নির্দিষ্ট নীতিগত সহায়তা ও প্রযুক্তি পেলে ট্যানারি বর্জ্য থেকে ক্যাপসুল ও আঠার মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি সম্ভব।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মতিউর রহমান। ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এই খাতের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের চিত্র তুলে ধরে খাতটির টেকসই সমাধানে সামগ্রিক নীতি হালনাগাদের দাবি জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মোহাম্মদ রাজ্জাকুল ইসলাম জানান, চামড়া খাতের উন্নয়নে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি ‘রোডম্যাপ’ তৈরিতে কাজ করছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, টিএসডব্লিউ উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প এবং ৩ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ সুবিধা পেতে পারেন।

এছাড়া, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস), বিএসটিআই, ডিপিডিটি, জিআইজেড দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা বর্জ্য পৃথকীকরণ, ভারী ধাতুর দূষণ রোধ, শ্রমিক ও কাঁচা চামড়া সংগ্রাহকদের প্রশিক্ষণ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুলতানা ইয়াসমিন জানান, সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে কার্যবিবরণী পাঠানো হবে।