শিরোনাম

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেট ভ্যালুয়েবল কার্গো এলাকায় কাপড়ের রোলের ভেতর কৌশলে আনা প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬৫৫টি মোবাইল ফোনের একটি বিশাল চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাস্টমস হাউসের এয়ারপোর্ট ও এয়ারফ্রেট সার্কেলের কর্মকর্তাদের বিশেষ তৎপরতায় ‘নিট ফেব্রিকস/পি কভার জি রোল’ হিসেবে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা চালানটি পরীক্ষার সময় এসব লুকানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে ‘থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেড’। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী উদ্ধার করা ফোনের মধ্যে রয়েছে ‘রেডমি ১৪সি’ মডেলের ৪৫০টি, ‘রেডমি ১৫সি’ মডেলের ১৫০টি এবং পুরোনো বা ব্যবহৃত আইফোন ও অন্যান্য চীনা ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি স্মারটফোন।
এনবিআর জানায়, এয়ার কার্গো সিস্টেমের ডেটাবেজ অনুযায়ী চালানটির মাস্টার এয়ার ওয়েবিল নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ এবং হাউস এয়ার ওয়েবিল নম্বর জেএল৫৭২০৩। হংকং থেকে আগত এ চালানের ঘোষিত বিবরণীতে শুধুই ‘নিট ফেব্রিকস’ উল্লেখ ছিল। চালানটির মোট ওজন ছিল ৮৯৫ কেজি এবং এটি ২০টি প্যাকেজে বিভক্ত ছিল।
চালানটি কার্গো ফ্লাইট আরএইচ-৬৬৫১ যোগে গত ৩১ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছায়। এতে পণ্য প্রেরণকারী হিসেবে ‘ঝেজিয়াং শাওশিং জিনহুয়া নিটিং কোম্পানি’ এবং মাস্টার এয়ার ওয়েবিলে ‘জ্যাঙ্কো গ্লোবাল লজিস্টিকস লিমিটেড’-এর নাম রয়েছে। ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে ‘এফ এফ কার্গো সার্ভিস’-এর।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ঘোষিত পণ্যের বর্ণনার সঙ্গে কায়িক পরীক্ষায় প্রাপ্ত পণ্যের চরম বৈসাদৃশ্য দেখা গেছে। এয়ার কার্গো নথিতে ‘নিট ফেব্রিকস’ ও ‘পি কভার জি রোল’ বলা হলেও মূলত কাপড়ের পেঁচানো রোলের সুনির্দিষ্ট ফাঁকা অংশে লুকিয়ে এই মূল্যবান ফোনগুলো চোরাচালানের চেষ্টা করা হয়।
এনবিআরের মতে, তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ ও সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য গোপন করে বিপুল অঙ্কের সরকারি শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর ও সঠিক বাজারমূল্য যাচাই-বাছাই, ফোনগুলো নতুন নাকি ব্যবহৃত তা নিরূপণ এবং ফাঁকিকৃত শুল্ক-করের পরিমাণ নির্ধারণের পর পুরো ঘটনার আর্থিক ব্যাপ্তি পুরোপুরি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সহ দায়ীদের চিহ্নিত করে কাস্টমস আইন অনুযায়ী কঠোর ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।