বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৪

আগস্টে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিস্থাপকতার আভাস

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): সর্বশেষ বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) অনুসারে, আগস্টে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতার আভাস দিয়েছে। এ সময়ে কৃষিখাত টানা ১২তম মাসে সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে এবং নির্মাণখাত আবারও প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষ সীমার কাছাকাছি ছিল।

আগস্টে সামগ্রিক পিএমআই ৪৯ দশমিক ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইয়ের ৫৭ দশমিক ৮ পয়েন্টের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট কম। উৎপাদন ও সেবাখাতে সাময়িক চাপের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা সংকোচনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে এ সময়ে কৃষিখাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং নির্মাণখাতও পুনরায় সম্প্রসারণের ধারায় ফিরেছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) আজ আগস্টের পিএমআই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে কৃষিখাতের পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬ দশমিক ৫-এ উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে খাতটি টানা দ্বাদশ মাস সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ খাতে কর্মসংস্থানও বেড়েছে।

নির্মাণখাতও আগস্টে ৫২ দশমিক ৪ পিএমআই নিয়ে আবারও সম্প্রসারণের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পর্যায়ে ফিরেছে। একই সময়ে নতুন ব্যবসার সংকোচনের হার কমেছে।

উৎপাদন খাতে আগস্টে উল্লেখযোগ্য মন্থরতা দেখা গেছে। এ খাতের পিএমআই ১৮ পয়েন্ট কমে ৪৭ দশমিক ৪-এ নেমেছে, ফলে খাতটি সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়, মজুত, আমদানি ও কর্মসংস্থান-সবগুলো সূচকই সংকোচনের পর্যায়ে ফিরে গেছে।

এদিকে উৎপাদন খাতে উপকরণের দাম দ্রুততর হারে বাড়তে থাকে। তবে অসম্পন্ন অর্ডারের সংকোচনের হার কমেছে এবং সরবরাহকারীদের পণ্য সরবরাহের সময় অপরিবর্তিত ছিল।

সেবাখাতও আগস্টে সংকোচনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। জুলাইয়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে এ খাতের পিএমআই ৪৯ দশমিক ২-এ নেমেছে। এর মাধ্যমে ২২ মাস পর প্রথমবারের মতো সেবাখাতে সংকোচন দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবাখাতে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রসারণের হার কমেছে। এ সময়ে কর্মসংস্থানেও উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। উপকরণ ব্যয় বাড়লেও বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে এবং অসম্পন্ন অর্ডারের সংকোচনের হারও কমেছে।

প্রতিবেদনকালীন উত্তরদাতাদের মতামতে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতার পাশাপাশি ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। অনেক উত্তরদাতা বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রকাশ করেছেন।

তবে উৎপাদন খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থপ্রাপ্তিতে জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড মন্থর হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তারা জ্বালানির মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সেবাখাতের ব্যবসায়ীরা আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয় কমানো এবং আয়করসহ অন্যান্য করের চাপ হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। কৃষিখাতের ব্যবসায়ীরাও বিশেষ করে কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, আগস্টে পিএমআই ৪৯ দশমিক ৯-এ অবস্থান করায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ সীমার কাছাকাছি ছিল, যদিও উৎপাদন ও সেবাখাতে সাময়িক চাপ ছিল।

তিনি বলেন, কৃষিখাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকা এবং নির্মাণখাত পুনরায় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসা অর্থনীতির অন্তর্নিহিত স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দেয়।

ড. রিয়াজ বলেন, উৎপাদন খাতের মন্থরতা আংশিকভাবে মাসিক রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এলএনজি অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণজনিত সাময়িক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক পদক্ষেপ অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে এবং আরও দৃঢ় প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যবসার ব্যয় কমানো, আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আরও সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়িক আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের গতি বাড়বে।

বাংলাদেশ পিএমআই হলো ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি)-এর উদ্যোগ। যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম) কারিগরি সহযোগিতায় এটি তৈরি করা হয়েছে।