শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা আরও জোরদারে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
বৃহস্পতিবার বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ইমপ্রুভিং ট্র্যান্সপারেন্সি ফর সাসটেইনেবল বিজনেস’ (আইটিএসবি) উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সম্প্রতি এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এই চুক্তির মাধ্যমে বিজিএমইএ ও জিআরআইয়ের দীর্ঘদিনের আইটিএসবি উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
চুক্তির আওতায় বিজিএমইএ দেশের পোশাক খাতে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। পাশাপাশি জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডস ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব চিহ্নিত ও প্রকাশে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এবং ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নির্ভরযোগ্য সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের রিপোর্টিং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আইটিএসবি উদ্যোগের আওতায় ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার, কর্মশালা ও সংলাপের আয়োজন করা হবে। এছাড়া দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জিআরআইয়ের বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণী পরিষদের কাছে পোশাক খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশে এ উদ্যোগের ট্রেনিং অ্যান্ড আউটরিচ পার্টনার হিসেবে কাজ করছে ‘দ্য সাসটেইনেবিলিটি নেক্সাস’ (সাসনেক্স)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের মে ও জুলাই মাসে আয়োজিত আইটিএসবি কর্মসূচিতে প্রায় ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। মে মাসের মাস্টারক্লাসে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জুলাই মাসের গোলটেবিল বৈঠক ও দ্বিতীয় মাস্টারক্লাসে অর্থনৈতিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সংযোগ এবং বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট মূল্যায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
জিআরআইয়ের চিফ অব স্ট্যান্ডার্ডস বাস্তিয়ান বাক বলেন, বিজিএমইএর সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পোশাক খাতে স্বচ্ছতা ও প্রভাবভিত্তিক রিপোর্টিং জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আইটিএসবি উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে জিআরআই মানদণ্ডের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং খাতটির জবাবদিহিতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিজিএমইএ’র রেসপন্সিবল বিজনেস হাব ও সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং-সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ইতোমধ্যে পরিবেশগত স্থায়িত্ব, কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল উৎপাদনের জন্য বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এখন এ সাফল্যকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী যথাযথভাবে পরিমাপ ও উপস্থাপন করাই প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, জিআরআইয়ের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ কারখানাগুলোকে আধুনিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ে দক্ষ করে তুলবে এবং এর মাধ্যমে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ঝুঁকি ও নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারবে।
বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করেছে, জিআরআইয়ের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, বিজিএমইএর নেতৃত্ব এবং সাসনেক্সের সহযোগিতায় এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।