শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক আমদানি শুল্কের মেয়াদ এ সপ্তাহেই শেষ হচ্ছে। এর আগে শিগগিরই কয়েক ডজন দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।
জোরপূর্বক শ্রম রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারকে লক্ষ্য করে নতুন শুল্কের প্রস্তুতি নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আদালতে আইনি ধাক্কার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাণিজ্যনীতি নতুন করে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন শুল্ক আসছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সিএনবিসিকে গ্রিয়ার বলেন, , ‘আমরা খুব শিগগিরই কিছু পদক্ষেপ দেখতে পাব।’ তবে তিনি কোনো সময়সূচি জানাননি।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপ করা একগুচ্ছ শুল্ক বাতিল করে দেওয়ার পর তিনি ১০ শতাংশের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তবে, এর শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হবে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে যে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে, সেটিই অস্থায়ী এ শুল্কের জায়গা নেবে।
এমন সময়ে এ পদক্ষেপ আসছে, যখন ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে শুল্ককে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। এতে পাল্টা পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করে। সোমবার কানাডার অনেক পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মঙ্গলবার বলেন, তারা সব ধরণের বিকল্প’ বিবেচনা করছেন। তিনি জানান, সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহে আলোচনা আরও জোরদার করতে তার সঙ্গে ট্রাম্প সম্মত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধের ওপর নতুন খাতভিত্তিক ১০০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন। এটি ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। ২০২৯ সালে এ হার ২০০ শতাংশে উন্নীত হবে।
তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করতে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে এ শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
-জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে উদ্বেগ-
গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাণিজ্যকে প্রভাবিত করবে। এতে বাণিজ্য উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে।
জোরপূর্বক শ্রম রোধে পদক্ষেপ নেওয়ায় কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যসহ অংশীদার দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে চীন, ভারত ও জাপানসহ ৪০টির বেশি বড় অর্থনীতির পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগেই বলেছে, এ ধরণের ভিত্তিতে আরোপিত শুল্ককে তারা ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে করে।
-কানাডার ওপর চাপ-
কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ৫০ শতাংশ শুল্ক এমন সময়ে আসছে, যখন উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর আলোচনা জোরদার হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন বর্তমান আকারে চুক্তিটির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) যৌথভাবে পর্যালোচনার অংশ হিসেবে গ্রিয়ার বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মেক্সিকো সফর করবেন।
তবে কানাডার সঙ্গে আলোচনা তুলনামূলক ধীরগতিতে এগিয়েছে। মঙ্গলবার কার্নি ওয়াশিংটনে আলোচনার জন্য যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
কিছু আইনজীবীর মতে, ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের খুব কম ব্যবহৃত ৩৩৮ ধারা প্রয়োগ করে ট্রাম্প ইউএসএমসিএ আলোচনায় কানাডার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন।
ডরসি অ্যান্ড হুইটনির বাণিজ্য আইনজীবী ডেভ টাউনসেন্ড বলেন, উচ্চ শুল্ক ‘কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা উৎসাহিত করা, অথবা সমঝোতা না হলে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে, কিংবা উভয় উদ্দেশ্যেই আরোপ করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, এখন প্রশ্ন হলো দুই পক্ষ কি উত্তেজনা ও পাল্টা পদক্ষেপের এক নতুন চক্র শুরু করবে?
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউএসএমসিএর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কানাডার যেসব পণ্য এ শুল্কের আওতায় পড়বে, সেগুলো কোনো ছাড় পাবে না।
মঙ্গলবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে কানাডার বিরুদ্ধে তার আগের হুমকির সঙ্গে নতুন শুল্কের কোনো সম্পর্ক নেই।
-ব্রাজিলের সঙ্গে উত্তেজনা-
অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার অভিযোগে ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করেছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। এ শুল্ক বুধবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে থাকায় এটি নির্বাচনী প্রচারেরও বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।
গরুর মাংস, কফি ও কিছু উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ কয়েকটি পণ্য এ শুল্কের বাইরে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না— এমন কিছু পণ্যও ছাড় পাবে।
তবু ব্রাজিলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের ফলে ব্রাজিল এমন দেশগুলোর কাতারে চলে যাবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘সবচেয়ে কঠোর শর্তের’ মুখোমুখি হচ্ছে। এতে ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।