শিরোনাম

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বের অন্যতম মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স আগামী ৪ আগস্ট শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো তাদের ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। সোমবার কোম্পানির বিনিয়োগকারী সম্পর্কিত (ইনভেস্টর রিলেশনস) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি নাসডাক শেয়ারবাজারে ‘এসপিসিএক্স’ টিকার অধীনে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটি ওই দিন বাজার বন্ধ হওয়ার পর, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে (২১৩০ জিএমটি) দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করবে। এই প্রতিবেদনে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের আর্থিক কার্যক্রম তুলে ধরবে।
এ ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মূল্যেরও নিচে নেমে গেছে।
গত ১২ জুন স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দামে শেয়ারবাজারে আত্মপ্রকাশ করে। পরে শেয়ারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ২২৫ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছায়, যার ফলে কোম্পানির বাজারমূল্য ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়।
তবে, এরপর থেকে শেয়ারের দর ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। সোমবার লেনদেন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ১১৯ দশমিক ৮৫ ডলার, যা আইপিও-পরবর্তী সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি কম।
আইপিও-সংক্রান্ত নথিতে স্পেসএক্স জানিয়েছিল, গত বছর তাদের ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে। কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন করা। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটি অদূর ভবিষ্যতে লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারবে বলে মনে হয় না।
বর্তমানে স্পেসএক্স তিনটি প্রধান বিভাগে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এগুলো হলো— মহাকাশ উৎক্ষেপণ ও মহাকাশসেবা, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিভাগ। এআই বিভাগের আওতায় রয়েছে গ্রোক, চ্যাটবট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স।
কোম্পানির মধ্যে স্টারলিংকই একমাত্র নিয়মিত লাভজনক বিভাগ। আইপিও নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে স্টারলিংকের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ। একই সময়ে এ বিভাগের আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাপক ডেটা সেন্টার নির্মাণ ব্যয়ের কারণে এআই বিভাগ গত বছর বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে।
আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইপিও-পরবর্তী প্রথম দফার ‘ইনসাইডার শেয়ার লক-আপ’ মেয়াদও শেষ হবে। এর ফলে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, কর্মকর্তা ও প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের কাছে থাকা এতদিন বিক্রিনিষেধে থাকা শেয়ার বাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারধারী তাদের শেয়ার বিক্রি করেন, তাহলে স্পেসএক্সের শেয়ারের দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।