বাসস
  ১৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৭

বেপজা ১ অর্থবছরে ৭১৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে 

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা), যা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৭৫ হাজার ৭৪৪ জনের কর্মসংস্থান হবে।

দেশের সামগ্রিক রপ্তানি সামান্য কমলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজা’র আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোর রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে দেশের মোট রপ্তানির ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এসেছে বেপজা থেকে। 

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেপজা জানায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের সামগ্রিক রপ্তানি কিছুটা কমে যাওয়ার মধ্যেও রপ্তানি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলো থেকে রপ্তানি হয়েছে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে বেপজা অঞ্চলের রপ্তানি ছিল ৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। ফলে দেশের মোট রপ্তানি যেখানে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে, সেখানে বেপজার রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সংস্থাটি জানায়, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার ফলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণেও রেকর্ড গড়েছে বেপজা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সামোয়া ও বাংলাদেশের ৩৬টি প্রতিষ্ঠান বেপজার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা স্থাপনের জন্য লিজ চুক্তি করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক অর্থবছরে বেপজার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রায় ৭৫ হাজার ৭৪৪ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে। নতুন শিল্পগুলোর বেশির ভাগই প্রচলিত তৈরি পোশাক খাতের বাইরে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাগ ও লাগেজ, ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ, টেক্সটাইল, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, ব্লুটুথ হেডফোন, বিমানে ব্যবহৃত অ্যামেনিটি ব্যাগ ও কিট, খেলনা ও মাছ ধরার ড্রোন, হালকা কার্গো ড্রোন, জুতা ও জুতার উপকরণ, তাঁবু, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ক্যাম্পিং ফার্নিচার, গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক তাঁবু, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং গৃহস্থালি পণ্য।

বেপজার মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত বিনিয়োগসেবা নিশ্চিত করার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। অনেক বিদ্যমান বিনিয়োগকারীও ব্যবসা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসছেন। উদাহরণ হিসেবে চীনের কাইশি গ্রুপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম কোম্পানি কাইশি লিঞ্জারি বাংলাদেশে ৬০ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান কাইশি গার্মেন্টস বাংলাদেশের মাধ্যমে আরও ৪০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য নতুন লিজ চুক্তি করেছে।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বেপজা। কার্যকর মূলধন বাদ দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজা অঞ্চলে মূলধনী যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য সম্পদে ২৮৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারের প্রকৃত বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বেপজার এফডিআই নেট ইনফ্লো ছিল ২২১ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার, যা একই সময়ে দেশের মোট এফডিআই নেট ইনফ্লোর ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও নতুন রেকর্ড গড়েছে বেপজা। অর্থবছরে সংস্থাটির আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোতে ২৫ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশির নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট কর্মসংস্থান ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৭ জন থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুন শেষে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯১ জনে পৌঁছেছে, যা বেপজার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বেপজা আরও জানায়, বর্তমানে তাদের আওতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকা ৪৫১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩ শতাংশ তৈরি পোশাক, ১৮ শতাংশ পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য এবং ৮ শতাংশ টেক্সটাইল খাতে কাজ করছে। 

বাকি ৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করছে। এসব পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ১২৯টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বেপজার আওতায় আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) এবং একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এসব অঞ্চলে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মোট রপ্তানি হয়েছে ১২৭ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। বেপজার আওতায় বর্তমানে ৫৬৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫১টি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে এবং ১১৫টি বাস্তবায়নাধীন।