শিরোনাম

দিনাজপুর, ১৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দরে অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট নির্মাণ শুরু হয়েছে।
দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি কারক এসোয়েশনের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী গতকাল রোববার এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দিনাজপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, দীর্ঘদিন অবহেলিত হিলি স্থলবন্দর উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান করতে তার উদ্যোগে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, হিলি স্থলবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উভয় পাশে হিলি টু বিরামপুর এবং হিলি টু ঘোড়াঘাট ৪ লেন রাস্তা নির্মাণ, মজবুত ও টেকসই পদ্ধতিতে কাজের অগ্রগতি শুরু হয়েছে। এরমধ্য রাস্তা প্রশস্ত করনের কাজে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিকরণ শাখার মাধ্যমে অধিকরণ এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাস্তার পাশে যাদের ভূমি
অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তারা সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের ভূমির ক্ষতি পূরণসহ অধিক মূল্য পাবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এই মেগা প্রজেক্ট এর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন।
তিনি নিজেই এই প্রকল্পের কাজ অগ্রগতির বিষয় সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন।
তিনি বলেন, হিলি-টু বিরামপুর রাস্তার কয়েকটি অংশে পিএমপি, ওয়ারিং কোর্স ও রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। শুধু এই রাস্তা মজবুত ও টেকসই পদ্ধতিতে নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে, ২৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা।
নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর হিলি স্থলবন্দর-ডুগডুগিুঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রথম সংশোধনের অনুমোদন চেয়েছে। এতে ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৮৭ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিগত সময়ে প্রকল্পটি মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।
সূত্রটি জানায়, এই মহাসড়কটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলিকে গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-বিরামপুর-ফুলবাড়ী দিনাজপুর-আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জাতীয় মহাসড়কের মানে উন্নীত করা হলে, হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন সহজ হবে, কমে আসবে সময় ও খরচ।
হিলি স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা হিলি স্থলবন্দর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এই স্থলবন্দর পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের সঙ্গে বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন চাল, গম, ভুট্টা, চিনি, পাথর, সার এবং শিল্পের কাঁচামালসহ নানা পণ্য এ বন্দর দিয়ে আদান-প্রদান হয়ে থাকে। যা রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থানের জন্য বড় ভূমিকা রাখেন।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থা, সরু পেভমেন্ট ও দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই পথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলা-বদ্ধতা ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি, ক্ষতি-পূরণ, শক্ত পেভমেন্ট নির্মাণ এবং ৫৭টি আরসিসি কালভার্ট পুনর্নির্মাণ বা প্রশস্ত করার অতিরিক্ত খরচের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে। নতুন নকশা ও নিরাপত্তা মানদন্ড অনুযায়ী কাজ শেষ করতে বাড়তি সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় পেভমেন্ট প্রশস্ত করণ, বাজার এলাকায় শক্ত পেভমেন্ট নির্মাণ, একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, আরসিসি ইউ-ড্রেন স্থাপন, ক্রস-ড্রেন সংস্কার, সড়ক চিহ্নিত-করণ এবং বিভিন্ন সেবা লাইন স্থানান্তরের মতো কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কাজ বাস্তব পরিস্থিতিতে পূর্বানুমানের তুলনায় বেশি জটিল ও ব্যয়-বহুল হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানি কারক এসিয়েশনের সূত্রটি জানায়,পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাদের জানান, বাজারদর বৃদ্ধি ও মাঠ পর্যায়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্প সংশোধন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
প্রকল্প শেষ হলে ঢাকা ও হিলির মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার ৮টি উপজেলা জুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। কৃষি-নির্ভর ও সীমান্ত বাণিজ্য নির্ভর এই অঞ্চলে উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থানীয় বাজারকে সক্রিয় করবে। যানবাহনের পরিচালনায় ব্যয় কমাবে এবং পণ্য পরিবহন দ্রুততর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটির জন্য একটি মেগা প্রজেক্টের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করে।
রাস্তার দু’পাশে সম্প্রসারণে জায়গার সীমাবদ্ধতা, ভারী যানবাহনের চাপ ও মৌসুমি যানজট থাকা সত্ত্বেও উত্তরাঞ্চলের সরবরাহ ব্যবস্থায় হিলি স্থলবন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। গত কয়েক বছরে বন্দর এলাকায় শুল্ক-সুবিধা, গুদাম ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার বিনিয়োগ করেছে।
হিলি স্থলবন্দর কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মহাসড়ক উন্নয়ন সম্পন্ন হলে হিলি স্থলবন্দর দৃশ্যমান অবকাঠামো পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।
এতে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়বে, যানজট কমবে এবং ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদী।