বাসস
  ১২ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪০

আন্তর্জাতিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিরীক্ষার ৮০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বেবিচক

ঢাকা, ১২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) পরিচালিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নিরীক্ষা সামনে রেখে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রায় ৮০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে বাংলাদেশের সক্ষমতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিতব্য এ দুটি নিরীক্ষাকে বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১৪ থেকে ১৭ জুলাই ডিএফটির নিরাপত্তা নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।

অন্যদিকে, আইকাও ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম–কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ)’র আওতায় আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নিরীক্ষা পরিচালিত হবে। এ সময় আইকাওর বিশেষজ্ঞ দল বেবিচকের সদর দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও এর বাস্তবায়ন মূল্যায়ন করবেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সার্বিক প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত নিয়মিত প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

প্রস্তুতির অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং বাকি বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে নিয়মিত সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত বছরের নভেম্বর থেকে আইকাও নিরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়। বিমান নিরাপত্তার নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা, ঘাটতি বিশ্লেষণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করছে।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা)-এর নেতৃত্বে প্রতি মাসে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বেবিচক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে প্রতি দুই মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্বিক প্রস্তুতির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অবকাঠামো জোরদারের অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, আধুনিক স্ক্যানার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্ট্যান্স টেস্ট (এফএটি) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্টে এসব সরঞ্জাম দেশে পৌঁছাবে এবং ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া, আইকাওর নিরীক্ষার আগে সম্ভাব্য ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত ও সংশোধনের লক্ষ্যে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বেবিচক নিজস্ব প্রি-অডিট পরিচালনা করবে।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আইকাওর নিরাপত্তা নিরীক্ষায় বাংলাদেশ ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছিল, যা সে সময়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ৬৫ শতাংশের চেয়ে বেশি ছিল। এবার ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, ডিএফটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ এবং যাত্রী নিরাপত্তায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ মানদণ্ড পূরণ করেছে।

বেবিচকের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, চলমান প্রস্তুতি, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজন এবং উচ্চপর্যায়ের নিবিড় তদারকির ফলে বাংলাদেশ উভয় নিরীক্ষায় আরও ভালো ফল অর্জন করবে। এর মাধ্যমে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।