বাসস
  ০৮ জুন ২০২৬, ২১:৩৫

সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন 

ফাইল ছবি

ঢাকা, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল (রিভলভিং) পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ জারি করা এসএমইএসপিডি সার্কুলারের মাধ্যমে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। শ্রমনিবিড় এবং স্বল্প পুঁজিনির্ভর হওয়ায় এ খাত আমদানি বিকল্প পণ্য ও সেবা উৎপাদন, জাতীয় আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক অবদান রেখে আসছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে চাহিদার তুলনায় চলতি মূলধনের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এ খাতের বিকাশ যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সিএমএসএমই খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের অপেক্ষাকৃত স্বল্প সুদ বা মুনাফায় এবং সহজ শর্তে চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। 

‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে গঠিত এ তহবিল আবর্তনশীল ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং সার্কুলার জারির তারিখ থেকে এর মেয়াদ হবে তিন বছর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মন্থর অর্থনীতির চাকা গতিশীল করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ জারিকৃত এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-১ অনুসারে সিএমএসএমই গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিতরণ করা চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে। নবায়নকৃত চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করা যাবে। পুনঃঅর্থায়িত অর্থের বিপরীতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ বা মুনাফা দিতে হবে। মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর ভিত্তিক ত্রৈমাসিক হিসেবে এ সুদ আরোপ করা হবে।

তবে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ প্রদানের সময় কোনো ব্যাংক গ্রেস পিরিয়ড দিলে বাংলাদেশ ব্যাংকও একই সময়কাল গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে বিবেচনা করবে এবং পরবর্তী ত্রৈমাসিক থেকে সুদ বা মুনাফাসহ কিস্তির অর্থ আদায় করবে।

গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ বা মুনাফা হারে ঋণ বা বিনিয়োগ প্রদান করতে পারবে। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখাগুলো তাদের অনুমোদিত বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে এ তহবিলের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ তহবিলের আওতায় গ্রাহকদের ৩ মাস অথবা ৬ মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যাবে। যদিও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ আরোপ করা হবে, তবে গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে কিস্তি আদায় শুরু হবে।

বিদ্যমান শিডিউল অব চার্জেসে অনুমোদিত চার্জ বা ফি ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সাধারণভাবে সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান হলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে যারা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না, তারা এ তহবিলের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাবে।

এছাড়া কোনো সিএমএসএমই গ্রাহক যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন, প্রাক-অর্থায়ন বা অনুরূপ স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন সুবিধা পেয়ে থাকে, তাহলেও ব্যাংক সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের প্রকৃত ঋণ চাহিদা মূল্যায়ন করে তার নির্ধারিত ঋণসীমার মধ্যে এ তহবিলের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে। 

তবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ঋণগ্রহীতা এ তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের যোগ্যতা সম্পর্কে সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ তহবিল থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে যেসব ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর/আইডিআর) ৭০ শতাংশের বেশি, তারা এ সুবিধা গ্রহণে অগ্রাধিকার পাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত এডিআর বা আইডিআর সীমা অতিক্রম করা যাবে না।

এ সুবিধা গ্রহণের জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে একটি পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট বা অংশগ্রহণ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। চুক্তিবদ্ধ ব্যাংকগুলোকে অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান (পিএফআই) হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা ঋণ আদায়ের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের ওপর বর্তাবে এবং গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের বিষয়টি কোনোভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনার সঙ্গে সম্পর্কিত করা যাবে না।

ঋণ ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে সহায়ক জামানত গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি পুনঃঅর্থায়ন মঞ্জুরির আগে বা পরে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী দলিলপত্র তলব করতে পারবে এবং ঋণের সদ্ব্যবহার যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন পরিচালনা করবে।

গ্রাহক নির্বাচন এবং চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ বিতরণের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ জারিকৃত এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০১ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।