বাসস
  ০৩ মে ২০২৬, ২২:৪২

এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে এডিবি'র নতুন উদ্যোগ

ঢাকা, ৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ক্লিন এনার্জি, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সহায়তার লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) একটি নতুন অর্থায়ন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এডিবির ৫৯তম বার্ষিক সভায় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আগামী শিল্প যুগ নির্ধারণ করবে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল শুধু কাঁচামালের উৎস হিসেবে নয়, বরং এসব খনিজ থেকে সৃষ্ট কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মূল্য সংযোজনের সুযোগও গ্রহণ করা উচিত।'

তিনি আরও বলেন, 'এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জরুরি পদক্ষেপ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা-দায়িত্বশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা, যাতে উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলো উন্নত উৎপাদন খাতে প্রতিযোগিতা করতে পারে এবং নিজ দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।'

'ক্রিটিক্যাল মিনারেলস-টু-ম্যানুফ্যাকচারিং ফাইন্যান্সিং পার্টনারশিপ ফ্যাসিলিটি' নামে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো- শুধু খনন নয়, বরং প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন এবং পুনর্ব্যবহারসহ উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে অঞ্চলকে এগিয়ে নেওয়া।

এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সুবিধা প্রকল্প প্রস্তুত, নীতি সংস্কার, এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মূল্য শৃঙ্খল জুড়ে সরকারি বিনিয়োগ ও বেসরকারি অর্থায়নকে সহায়তা করবে।

এই সুবিধার দুটি অংশ রয়েছে-একটি অনুদান উইন্ডো এবং একটি ক্যাটালিটিক ফাইন্যান্স উইন্ডো।
অনুদান উইন্ডোর মাধ্যমে প্রাথমিক প্রকল্প কার্যক্রম যেমন- সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং জ্ঞান বিনিময়ে অর্থায়ন করা হবে। জাপান সরকার এ খাতে ২ কোটি ডলার এবং যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ লাখ ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ক্যাটালিটিক ফাইন্যান্স উইন্ডোর লক্ষ্য- অন্যান্য অর্থায়ন অংশীদারদের সহ-অর্থায়ন ও ঝুঁকি ভাগাভাগির মাধ্যমে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক এবং কোরিয়ান ট্রেড ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (কে-শিওর) প্রত্যেকে ৫০ কোটি ডলারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যা এই ফ্যাসিলিটির প্রথম অংশীদারিত্ব।

এই উদ্যোগটি এডিবির ২০২৫ সালের কৌশলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যার লক্ষ্য দায়িত্বশীল ও টেকসই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ-ভিত্তিক উৎপাদন শৃঙ্খল উন্নয়ন।

এডিবি ইতোমধ্যে ভারতে ব্যাটারি উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার, মঙ্গোলিয়ায় ভূতাত্ত্বিক তথ্য মানচিত্রায়ন, উজবেকিস্তানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ধাতু উৎপাদন, কাজাখস্তানে খনিজ কৌশল প্রণয়ন এবং ফিলিপাইনে রোডম্যাপ ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারে সহায়তা করছে।

এডিবি অংশীজনদের সঙ্গে মিলে একটি 'ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ডাটাবেজ'ও গড়ে তুলেছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কে তথ্য উন্নত করতে এবং নীতিনির্ধারণে সমন্বয় বাড়াতে সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বাড়তি চাহিদা পূরণ করা, পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

এই সুবিধার আওতায় সমর্থিত সব প্রকল্প এডিবির কঠোর পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড, যথাযথ যাচাই এবং প্রভাব মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি সমর্থনকারী একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা।

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৯, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।