বাসস
  ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৩
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:০০

শেষ হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, বিক্রি ৩৯৩ কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ‘৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬’ আজ শেষ হয়েছে।

মাসব্যাপী এ মেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং ৩৯৩ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য-সামগ্রী বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। এফবিসিসিআই’র প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মাসব্যাপী এ মেলায় দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে ৬টি দেশের (ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া) মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো,  ক্ষুদ্র , মাঝারি ও ভারী শিল্পের অন্তর্ভুক্ত অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের  পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, কসমেটিকস, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারি, হোম ডেকর , ক্রোকারিজ, হস্তশিল্পজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট শিল্পের পণ্য ও সেবাসহ ফাস্টফুড ও নানাবিধ সেবাসামগ্রী প্রদর্শিত ও বিক্রি হয়। 

প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬ এর সরেজমিন জরিপের মাধ্যমে সকল প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শিত পণ্য-সামগ্রীর মধ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নতুন পণ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

রপ্তানি আদেশ লাভে সক্ষম খাতগুলো হলো বহুমুখী পাট পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিকস, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশি কাঁথা, ফেব্রিক্স ইত্যাদি। 

আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ  থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। 

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অভ্যন্তরীণ সাজ-সজ্জা, পণ্য প্রদর্শন এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান ও ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলী প্রতিপালন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত করা হয়।

রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ানো ও রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ইপিবির নেতৃত্বে একটি সেমিনার সিরিজের আওতায় ৮টি সেমিনার আয়োজন করা হয়। এসব সেমিনারে সহযোগিতা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা (বিএসসিআইসি, এসএমই ফাউন্ডেশন ও জেডিপিসি), পণ্যভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন (বিপিজিএমইএ, বিজিএপি এমইএ, বিএফপিআইএ ও বাংলাক্রাফট) এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক, জিআইজেড, এফসিডিও ও বিএসআই।

দেশীয় লোক সংগীত এবং আধুনিক গানের মেলবন্ধন উপস্থাপন এবং দর্শনার্থীদের বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা করতে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা-২০২৬ এ দেশ বরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন করা হয়।

এবারের বাণিজ্য মেলাকে অধিকতর আকর্ষণীয় করতে অনলাইনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ এবং মেলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় কনসেশন রেটে পাঠাও সার্ভিস। এবারের বাণিজ্য মেলায় ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে স্থিরচিত্র প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ স্কয়ার নির্মাণ করা হয়।

বিদেশি ক্রেতা ও দেশীয় দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনায় রেখে মেলায় এক্সপোর্ট এনক্লেভ স্থাপন করা হয়, যেখানে সাতটি শীর্ষ রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। সিনিয়র সিটিজেনদের মেলা উপভোগ্য, আনন্দদায়ক, আরামপ্রদ করার জন্য সিনিয়র সিটিজেন কর্নার, মা ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং শিশুদের নির্মল আনন্দ ও বিনোদনের জন্য শিশু পার্কের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। 

মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি এবং অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়।

খাদ্য-দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা হয়রানি রোধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মাসব্যাপী মেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।