শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কর ব্যবস্থা পুনর্গঠন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের চেয়ারপারসন এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার আজ জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কেবল খন্ডিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়,বরং ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
‘উন্নয়নের জন্য কর নীতি : কর ব্যবস্থা পুনর্গঠনের একটি সংস্কার এজেন্ডা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ লক্ষ্যে পিআরআই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. সাত্তার এবং টাস্কফোর্সের সদস্যরা ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০-১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫-২০ শতাংশে উন্নীত করার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব নীতি বিভাগের জন্য প্রস্তুতকৃত এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে ড. সাত্তার বলেন, বর্তমান কর ব্যবস্থা অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং ম্যানুয়াল প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল।
ড. সাত্তার সতর্ক করে বলেন যে, ‘সামান্য কাটছাঁট বা জোড়াতালি দিয়ে কাজ হবে না’। যুক্তি তুলে ধরে বলে তিনি বলেন, যখন কর নীতি অসংলগ্ন থাকে, যেখানে করের ভিত্তি সংকীর্ণ এবং হারের বৈষম্য থাকে-তখন কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেও পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হয় না।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রুটিপূর্ণ নীতিমালার কারণে কর প্রশাসনকে আক্রমণাত্মক অডিট ও খেয়ালখুশি মতো মূল্যায়নের মতো বিবেচনামূলক এবং অ্যাড-হক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত করদাতার আস্থা নষ্ট করে।
তিনি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ করের বর্তমান ৭০:৩০ অনুপাতকে সময়ের সাথে সাথে ৫০:৫০-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন। এই সংস্কার এজেন্ডার অধীনে, প্রত্যক্ষ কর বর্তমানে জিডিপির ২.৫ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯-১০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মোট রাজস্বে বাণিজ্য করের অংশ বর্তমানের ২৮ শতাংশ থেকে কমে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৭.৫ শতাংশে দাঁড়াবে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্যনীতি প্রসঙ্গে ড. জাইদী সাত্তার শুল্ক ও প্যারা-ট্যারিফের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান কাঠামো রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বিরোধী মনোভাব তৈরি করে এবং পণ্যের বহুমুখীকরণকে নিরুৎসাহিত করে। তিনি সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট ব্যবহারের প্রথা বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ অটোমেশন সিস্টেমে বিনিয়োগ সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত ‘অব্যবহৃত’ রয়ে গেছে। তিনি বন্দরে কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাধীন চর্চার পরিবর্তে বিল্ট-ইন ইন্টেলিজেন্স এবং পোস্ট-ক্লিয়ারেন্স অডিটের মাধ্যমে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার অদক্ষতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভ্যাট রাজস্ব ছিল জিডিপির ২.৮ শতাংশ, যেখানে কর অব্যাহতি বা ছাড়ের কারণে রাষ্ট্রের আনুমানিক ক্ষতি হয়েছে জিডিপির ৩.৬ শতাংশ।
তিনি জানান, প্রতিবেদনে উপহার বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কর আরোপের একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কর ব্যবস্থার প্রবর্তন করবে।