শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দেশব্যাপী ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দাখিল ও প্রক্রিয়াকরণের নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আজ জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো এখন ব্যাংক-টু-ব্যাংক ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রপ্তানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। এই নতুন নীতিমালা ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্টস অ্যাগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ), উভয় পদ্ধতির ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশনস (ইউআরসি ৫২২) এর ইলেকট্রনিক প্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত সম্পূরক বিধি (ই-ইউআরসি) অনুসরণ করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এডি ব্যাংকগুলোকে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় ডকুমেন্ট উপস্থাপনের আগে বিদেশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যেমন কালেক্টিং বা প্রেজেন্টিং ব্যাংকের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। ওই চুক্তিতে ইলেকট্রনিক রেকর্ডের ফরম্যাট এবং উপস্থাপনের নির্ধারিত স্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পাশাপাশি, সকল বিক্রয় চুক্তিতে ই-ইউআরসি নির্দেশনা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে।
যেসব দেশে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস (ইটিআর) আইনগতভাবে অনুমোদিত, সেখানে কার্গোর মালিকানা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ সব ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে, শর্ত থাকে যে এসব ডকুমেন্টের আইনগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকবে। তবে যেখানে ইটিআর অনুমোদিত নয়, সেখানে বিল অব লেডিং বা বিল অব এক্সচেঞ্জের মতো পণ্য মালিকানা বা হস্তান্তরযোগ্য ডকুমেন্ট কাগজে পাঠাতে হবে; অন্যান্য সহায়ক ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো যাবে।
কোনো ক্ষেত্রে কালেক্টিং ব্যাংক যদি ইলেকট্রনিক উপস্থাপনের পরও কাগজপত্র দাবি করে, তবে এডি ব্যাংকগুলো প্রমাণিত ইলেকট্রনিক কপি সরবরাহ করতে পারবে।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাধিক সুরক্ষিত এন্ডোর্সমেন্ট পদ্ধতির অনুমোদন দিয়েছে। স্বীকৃত প্ল্যাটফর্মে ইস্যুকৃত পরিবহন ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর বা অডিট ট্রেইলসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্মভিত্তিক টুল ব্যবহার করা যাবে। বিকল্প হিসেবে ডিজিটালি সাইন করা এন্ডোর্সমেন্ট সার্টিফিকেট (ডিএসইসি) অথবা সুইফটভিত্তিক বার্তাও এন্ডোর্সমেন্ট প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সব ইলেকট্রনিক উপস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ অডিট ট্রেইল সংরক্ষণ করতে হবে এবং বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী নিরাপদভাবে তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক তথ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডের সঙ্গে তাদের সিস্টেম সামঞ্জস্য করারও পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঝুঁকিভিত্তিক ও ধাপে ধাপে এই ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করা যাবে এবং কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে রপ্তানি প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে নির্বিঘ্ন রূপান্তর নিশ্চিত করা হবে।