শিরোনাম

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘদিনের খাতভিত্তিক চাপ ও অনিয়মের পর আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা (রিস্ক-বেসড সুপারভিশন—আরবিএস) চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রচলিত নিয়মভিত্তিক (কমপ্লায়েন্স-নির্ভর) তদারকি পদ্ধতি থেকে সরে এসে প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানান, ঝুঁকিভিত্তিক এই পদ্ধতির ফলে আর্থিক খাতের দুর্বলতা আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা। এখানে কেবল নিয়ম মেনে চলা নয়, বরং তথ্যের যথার্থতা ও আগাম ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নজরদারি করা হবে।’
আরবিএস কাঠামোর আওতায় ‘সবার জন্য এক নিয়ম’ ধরনের তদারকি পদ্ধতি পরিত্যাগ করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন কাঠামো, সম্পদের গুণগত মান, তারল্য ঝুঁকি ও সুশাসনসহ বিভিন্ন ঝুঁকি সূচক বিশ্লেষণ করে তদারকি করা হবে।
এই রূপান্তর বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন সম্পন্ন করেছে। বিদ্যমান ১৩টি বিভাগ পুনর্গঠন করে ১৭টি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ব্যাংক তদারকি বিভাগ রয়েছে, যা রিয়েল-টাইম তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক নজরদারি করবে।
এছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স, পেমেন্ট সিস্টেম এবং নীতিমালা প্রণয়নের জন্য পাঁচটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকির জন্য আলাদা একটি বিভাগও গঠন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) আদলে কাজ করবে। এতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক কঠোরতা আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উল্লেখ্য, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামোটি গত ১ জানুয়ারি চালু হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে তা কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।