শিরোনাম

সৈয়দ শুকুর আলী শুভ
ঢাকা, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে গত বছর উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা প্রায় ৩২ হাজার ৮১৬ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন (৩২.৮২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশ মোট ৩৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। যেখানে আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।
সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সরকার বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে কর্মী পাঠানোর একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তাদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, প্রবাসীরা জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা ১৬ হাজার ৭৯ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ৬৫৮ মিলিয়ন ডলার।
শ্রমিক অধিকার সংগঠনের বিশেষজ্ঞরা জানান, গত ৫০ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের সাথে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।
তারা আরও জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টি-ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন কারণে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বিনিময় হারের ব্যবধান কমে আসা এবং মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।
বিএমইটির এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর মোট ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক কাজের জন্য সৌদি আরবে গেছেন। কাতারে গেছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৪৭২ জন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর ও কুয়েতে গেছেন যথাক্রমে ৭০ হাজার ৫৬ এবং ৭২ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। সরকার নতুন গন্তব্য হিসেবে রাশিয়া, ব্রুনাই দারুসসালাম এবং পূর্ব ইউরোপে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।’
এছাড়াও, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য নার্স, ডাক্তার এবং অন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীরা সাধারণত জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশল, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং, সাধারণ মেকানিক্স, বৈদ্যুতিক যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, অটোক্যাড ২ডি ও ৩ডি, ওয়েল্ডিং (৬জি), ক্যাটারিং, রাজমিস্ত্রি কাজ এবং বিদেশি ভাষা যেমন- কোরিয়ান, আরবি, ক্যান্টনিজ ও জাপানি ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন।