বাসস
  ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:২৫

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র লাইসেন্স অনুমোদন

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) পরিচালনা পর্ষদ আজ নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছে।

মূলধন কাঠামোর ভিত্তিতে এই নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ও শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংকে পরিণত হতে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যাংকিং খাত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল-যার লক্ষ্য ছিল সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক শৃঙ্খলা জোরদার করা‘ -সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর প্রতিষ্ঠা সেই উদ্যোগেরই ফল।

নতুন ব্যাংকটি ব্যাংক রেজুলেউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর বিধান অনুসারে তৈরি করা হয়, যা পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকের সমাধানের জন্য একটি প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। সমাধানের আওতায় আনা পাঁচটি ব্যাংক হল- এক্সিম ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি।

৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এই পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকের সমাধানের উদ্দেশ্যে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপর ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুসারে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে এবং প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

পরবর্তীতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রস্তাবিত ব্যাংকটির জন্য একটি অনাপত্তি সনদপত্র (এলওআই) এবং একটি অনাপত্তিপত্র জারি করে। ব্যাংকটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস রেজিস্ট্রারের সাথে নিবন্ধন করে এলওআইয়ের শর্ত পূরণ করে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র নির্ধারিত পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়াকে নবগঠিত ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, আমানতকারীদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকার কারণ নেই এবং কেউ তাদের অর্থ হারাবেন না।

ডিপোজিট প্রটেকশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫ অনুযায়ী দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পুরোপুরি সুরক্ষিত। দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রেও পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি তদারকি করা হবে এবং একীভূতকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুতই পরিশোধ করা হবে। খুব শিগগিরই একটি নির্দিষ্ট পরিশোধ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।

নতুন ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে জনআস্থা পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে যে এই একীভূতকরণ দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হবে।

স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন ব্যাংকটি একটি গতিশীল, আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক শরিয়া ভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে নিজেদের সম্ভাবনা ও সক্ষমতা প্রমাণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।