বাসস
  ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫২

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, চাঙা পর্যটন খাত

ছবি : বাসস

ইব্রাহিম খলিল মামুন

কক্সবাজার, ২৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। সাগর তীরজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য।

পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রস্নান ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈকতসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

হোটেল মালিকদের তথ্যমতে, গত তিন দিনে প্রায় ৪ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় দেখা যায়, ছুটি শেষ হলেও পর্যটকের উপস্থিতি এখনো উল্লেখযোগ্য।

লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্য চোখে পড়েছে। কেউ বিস্তৃত বালিয়াড়িতে হাঁটছেন, কেউ বিচবাইক, ঘোড়া ও জেটস্কিতে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন। আবার কেউ সাগরের হিমেল হাওয়া উপভোগ করছেন বা স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। তবে, অধিকাংশ পর্যটকের মূল আকর্ষণ সাগরের লোনাজলে গা ভাসিয়ে অবসাদ দূর করা।

ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা ইফতিখার ও কানিজ দম্পতির সন্তান রুসাইফা ও ওয়াসিফা প্রথমবার ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানায়, শুরুতে ভয় পেলেও পরে তারা বেশ আনন্দ পেয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আল আমিন বলেন, ‘কক্সবাজারে এসে ঈদ উদযাপন সত্যিই আনন্দের। বন্ধুদের সঙ্গে জেটস্কি চালানো ও সাগরে গোসল— সবমিলিয়ে দারুণ সময় কাটছে।’

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের দিন থেকে তিন দিনে অন্তত ৪ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। মঙ্গলবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করলেও শুক্রবার পর্যন্ত পর্যটকের উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রমজান মাসে প্রায় দেড় মাস পর্যটকশূন্য ছিল সৈকত। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ছিল। তবে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনে আবারো ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

ফটোগ্রাফার, বিচবাইক চালক, ঘোড়াওয়ালা এবং বার্মিজ পণ্যের দোকানিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। ঘোড়াওয়ালা মোহাম্মদ ইসলাম জানান, দুই ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার টাকা আয় করেছেন। বিচবাইক চালক মো. রাসেল বলেন, রমজানে আয় না থাকলেও এখন পর্যটকের কারণে আয় বেড়েছে। জেটস্কি ব্যবসায়ী মো. সাদ্দাম জানান, পর্যটক বাড়ায় তাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে।

এদিকে সাগরে ঢেউয়ের মাত্রা বাড়ায় সমুদ্রস্নানে ঝুঁকি বেড়েছে। তাই লাইফগার্ড কর্মীরা পর্যটকদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার ব্যবস্থাপক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বর্তমানে সৈকতে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন এবং আগামী দিনে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তবে, মাত্র ২৭ জন কর্মী দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। 

তিনি আরও বলেন, শীত মৌসুম শেষে বর্ষার পূর্বাভাসে সাগর কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠছে, ফলে দায়িত্ব পালন করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা সৈকতে স্থায়ী টিম দায়িত্ব পালন করছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া, মোবাইল টিম পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।