শিরোনাম

\ আজাদ রুহুল আমিন \
বাগেরহাট, ৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ১৫শ’ শতকে সুলতানি আমলে খান জাহান আলী (র.) কর্তৃক নির্মিত অসংখ্য ঐতিহাসিক মসজিদ, মাজার, দিঘি ও প্রাচীন স্থাপনার ঘনত্বের কারণে বাগেরহাটকে ‘মসজিদের শহর’ বলা হয়।
ইউনেস্কো ১৯৮৫ সালে একে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, জিন্দা পীর মসজিদসহ অনেক প্রাচীন নিদর্শন।
বাগেরহাটকে মসজিদের শহর বলার প্রধান কারণ ঐতিহাসিক খলিফাতাবাদ খান জাহান আলী এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ‘খলিফাতাবাদ’ নামক একটি সমৃদ্ধ শহর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন।
এখানে সুলতানি আমলের তিন শতাধিক মসজিদ, রাস্তা, ব্রিজ ও দিঘি নির্মিত হয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মসজিদ আজও টিকে আছে। এই অঞ্চলের মসজিদগুলো ‘খান জাহান স্টাইল’ বা পোড়ামাটির অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।
এই ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বাগেরহাটের বিশেষ স্থাপনাগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
উল্লেখযোগ্য কিছু মসজিদ ও স্থানসমুহের মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ সবচেয়ে বিখ্যাত, যদিও এর গম্বুজের সংখ্যা ৬০-এর বেশি (৭৭টি বা ৮১টি)।
খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার এটি এই শহরের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র । নয় গম্বুজ মসজিদ ও জিন্দা পীর মসজিদ।
মূলত, অল্প জায়গায় ঘনবসতিপূর্ণভাবে এত বেশি ঐতিহাসিক মসজিদ ও ১৫শ’ শতকের ইসলামি সংস্কৃতির নিদর্শন বিশ্বের খুব কম শহরেই পাওয়া যায়
মসজিদের শহর বাগেরহাট মূলত একটি বিলুপ্ত শহর। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত বাগেরহাট জেলার অন্তর্ভুক্ত বাগেরহাট শহরের একটি অংশ ছিল এই শহরটি।
বাগেরহাট খুলনা থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে এবং ঢাকা থেকে ৩শ’ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। এই শহরের অপর নাম ছিলো খলিফাতাবাদ এবং এটি শাহী বাংলার পুদিনার শহর নামেও পরিচিত ছিল।
১৫শ’ শতকে তুর্কি সেনাপতি খান-ই-জাহান এই শহরটি গড়ে তোলেন। বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া ১৫টি শহরের একটি তালিকা তৈরি করেছিলো ফোর্বস। আর ৫০টির বেশি ইসলামিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে তৈরি এই শহরটিকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে এই শহরটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়
‘স্থাপত্য কর্মের একটি অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে এটি মানব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বর্ণনা করে।’