বাসস
  ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:০৯
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:১৯

বাকৃবির সবুজ ক্যাম্পাস ও নদের স্রোতধারা যেন এক অন্যরকম জীবনচিত্র

ক্যাম্পাসের গা ঘেঁষে ব্রহ্মপুত্র নদ বইছে নিরবচ্ছিন্ন। ছবি : বাসস

বাকৃবি, ময়মনসিংহ, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) : ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্রপাড়ে দাঁড়ালে চোখে পড়ে এক অপার সৌন্দর্যমন্ডিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা দেশের প্রথম এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও অনন্য করে তুলেছে এর পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদ। দেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিবেশ নেই। যার ক্যাম্পাসের গা ঘেঁষে নদ বইছে নিরবচ্ছিন্ন।

নদপাড়েই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন। হাজারো গাছ, লতা, বিরল প্রজাতি আর গবেষণার অপরিসীম সম্ভাবনার এক বিশাল ভাণ্ডার। পাখির কলকাকলি আর পাতার ফাঁকে বাজতে থাকা বাতাসের সুরে এখানে প্রতিদিনই তৈরি হয় এক নিজস্ব ঐকতান। প্রকৃতি যেন এখানে নিজের রঙে আঁকে সকাল আর বিকেলকে।

এই নদপারেই রয়েছে উদীচী ঘাট। বহু মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এ প্রিয় ঘাটটি। দর্শনার্থীদের অপেক্ষায় প্রতিদিন সারি সারি নৌকা সাজানো থাকে এ ঘাটে। ছুটির দিনে শিক্ষার্থী, গবেষক, পরিবার, আর দূর দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ান। নদীর মাঝখানে পৌঁছালে ঠান্ডা বাতাস আর চারপাশে শান্তির যে আবরণ সৃষ্টি হয় তা যেন ক্লান্ত মানুষকে নতুন শক্তি দেয়।

উদীচী ঘাট শুধু বিনোদনের জায়গা নয়। এটি অনেক মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। নৌকাচালকদের পরিবারের চাকা ঘোরে এই নদীর জলে। ঘাটের উপরেই রয়েছে ফুচকা-চটপটির দোকানের সারি সারি ছোট্ট স্টল। 

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অতিথিরা মেতে ওঠেন আড্ডা আর স্বাদের উৎসবে। নীরব সন্ধ্যায় লন্ঠনের আলোয় এই স্টলগুলো যেন নদপাড়ে তৈরি করে আরেকটা ছোট পৃথিবী। 

নদের ওপারের মানুষ প্রতিদিন ভোরে এই ঘাট দিয়ে টাটকা সবজি, ফল, দুধ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে আসে। নদ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো তাদের বহু বছরের অভ্যাস। ব্রহ্মপুত্র এখানে শুধু নদ নয়। এ যেন দুই পাড়ের মানুষের সেতুবন্ধন।

এদিকে নদঘেঁষা পতিত জমিতে নিত্য নতুন স্বপ্ন বুনছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা। পতিত জমিতে কেউ চাষ করছেন মৌসুমি সবজি, কেউবা করছেন ফুলের বাগান। নদীর পলিযুক্ত উর্বর মাটিতে স্বপ্ন পুরনে কৃষকেরা ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে উৎপাদন করছেন মৌসুমি সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য। তেমনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আশা, ভবিষ্যতে দেশকে খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

ব্রহ্মপুত্রপাড়ের এই ঘাট তাই শুধু একটি স্থান নয়। এটি জীবন, প্রকৃতি শ্রম, স্বপ্ন আর আবেগের এক অনন্য মিলনমেলা। বাকৃবির শিক্ষার্থী আর বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে থাকা মানুষের কাছে এটি স্মৃতির আধার। আর দেশের মানুষদের জন্য এটি এক অনন্য উদাহরণ। ক্যাম্পাস আর নদ মানুষের জীবনের সাথে মিশে গিয়ে হয়ে ওঠেছে জীবন্ত গল্পের উৎস।

ব্রহ্মপুত্র অনন্ত স্রোতে বয়েই চলেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। আর সেই স্রোতের পাশে দাঁড়িয়ে বাকৃবির ঘাটও মানুষের হাসি, আশা আর গল্প বয়ে চলেছে। এই সৌন্দর্য, এই জীবন আর এই ইতিহাস বাংলাদেশের একটি অমূল্য সম্পদ।