বাসস
  ০২ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩৫

শরীয়তপুরের ঘাটাখান মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন

শরীয়তপুরের ঘাটাখান মসজিদ। ছবি: বাসস

মুজিবর রহমান

শরীয়তপুর, ২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : স্থাপত্য শিল্পে শৈলীতে মুসলিম শাসক এবং পরবর্তীতে মুসলিম জমিদারের কীর্তিকালের সাক্ষী হয়ে এখনো স্বগৌরবে টিকে আছে ঘাটাখান পাকা মসজিদটি। শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নলমুড়ি ইউনিয়নের ঘাটাখান পাকা মসজিদ তেমন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান।

১৮৭৮ খ্রীষ্টাব্দে মুসলিম জমিদার গোলাম আলী চৌধুরী মসজিদটি তৈরি করেছেন। এক একর ওয়াকফ জমিতে এ পাকা মসজিদ, মসজিদ সংলগ্ন চারপাশ পাকা করা পুকুর, পুকুরে পাকাঘাট, পাকা দেয়াল বেষ্টিত কবরস্থান নির্মাণ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। তৎকালীন সময়ে ইদিলপুর পরগণার গোলাম আলী চৌধুরী ব্যতীত কোনো পাকা স্থাপনা কেউ নির্মাণ করতে পারেনি। গোলাম আলী চৌধুরীর বাড়িঘরও ছিল পাকা। এলাকাবাসীর মতে এখান থেকেই মসজিদের নাম পাকা মসজিদ হিসেবে খ্যাত। বর্তমানে মসজিদটি মিয়া বাড়ি ঈদগাঁও জামে মসজিদ হিসেবে পরিচিত।

মসজিদের শিলা লিপিতে জামিনা খাতুন, মরহুম মিয়া মহমদ আসক চৌধুরী মাদরে, মিয়া গোলাম আলী চৌধুরী, ঘাটাখান, হাটুরিয়া, ১২৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দ উল্লেখ রয়েছে।

মুল মসজিদটি ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ভেঙে পড়ায় তৎকালীন নলমুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান মিলুমিয়া এর সংস্কার কাজ করেন বলে স্থানীয় আবুল হাছান খান জানান।

চুন সুরকি দিয়ে লোহার ভীমের ওপর গাঁথুনি, তার ওপর মূল্যবান টাইলসে এটা তৈরি করা হয়েছে।

মূল মসজিদের মধ্যখানে একটি বৃহৎ গম্বুজ ও ছাদের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে আড়াই ফুট উঁচু ১৭টি পিলার এখনো দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি পিলারের ওপর ৩০কেজি পিতল দিয়ে কলার মুচি তৈরি করা হয়েছে। যা কাছ থেকে দেখলে এখন আর বুঝা যায় না। শ্যাওলায় এসব ঢেকে আছে। এগুলো পরিস্কার না করার কারণ সম্পর্কে আবুল হাছান খান বলেন, চোর ডাকাতের দৃষ্টি এড়াতে এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে না।

একসঙ্গে মসজিদটিতে মুল ভবনে ১২০ জন ও বারান্দায় ৯০ প্রায় জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মুসল্লীদের সুবিধার্থে মসজিদের মূল ভবনের সামনে পাকা বারান্দা তৈরি করা হয়েছে। মসজিদটিতে ঈদের নামাজ, জুম্মার নামাজ, পাঞ্জেগানা নামাজ, নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সময় মসজিদ প্রাঙ্গনে মেলা বসে।

মেলায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই মেলা পাকা মসজিদে ঐতিহ্য বলে স্থানীয়দের অভিমত।

পাকা মসজিদের স্থপতি জমিদার গোলাম আলী চৌধুরী ১৩৩১ সনে জন্ম গ্রহণ করেন ও ১২৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এই পাকা মসজিদ ছাড়াও ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য ১০হাজার টাকা, মাদারীপুরে একটি পাকাঘাট, ডাক্তারখানাসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের জন্য তৎকালীন সময়ে লক্ষ ২ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদানের ইতিহাস এখনো সবার মুখে-মুখে।

পাকা মসজিদ খ্যাত ঘাটাখান মিয়াবাড়ি ঈদগাঁও জামে মসজিদটি উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসী সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন।