বাসস
  ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬

যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম

ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। এর মাধ্যমে ফোলারিন বালোগানকে নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতারও জবাব দিয়েছে রোমেলু লুকাকুর দল। 

কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর এই পরাজয়ে আরো দুই সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও কানাডার মত যুক্তরাষ্ট্রকেও এখন দর্শক হিসেবে বাকি সময় উপভোগ করতে হবে। 

ম্যাচের আগে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফার কাছে সেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলে। বিতর্কিতভাবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই অনুরোধ মেনে নেয়, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।

আজকের ম্যাচে বেলজিয়ামের শুরুর একাদশেও ছিল কিছু চমক। দলের দুই তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা ও জেরেমি ডোকুকে বেঞ্চে রাখা হয়। কোচ রুডি গার্সিয়ার এই কৌশল দারুণ সফল হয়। ম্যাচের শুরুতেই চার্লস ডি কেটেলারে গোল করে সিয়াটলের উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথম ধাক্কা দেন।

মালিক টিলম্যান একটি ফ্রি-কিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান। কিন্তু ডি কেতেটলারে দ্রুত আবার বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন। গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের ভয়াবহ ভুল এবং শেষ দিকে রোমেলু লুকাকুর গোল যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় নিশ্চিত করে দেয়।

আগের রাউন্ডে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ফিফার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থক, বিশ্লেষক ও খেলোয়াড়দের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে সিয়াটলের দর্শকদের মধ্যে এমন কোনো অসন্তোষ দেখা যায়নি।

শুরুর একাদশ ঘোষণার সময় বালোগানের নাম উচ্চারণ করা হলে স্টেডিয়াম জুড়ে বজ্রধ্বনির মতো উল্লাস ওঠে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের জন্য ওঠা করতালিকেও ছাপিয়ে যায়।

ম্যাচের শুরুতে "ইউএসএ, ইউএসএ" ধ্বনিতে পুরো স্টেডিয়াম মুখর হয়ে ওঠে, আর তাতে বেলজিয়ামের অল্পসংখ্যক সমর্থকদের স্লোগান প্রায় চাপা পড়ে যায়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেই উৎসব বেশিক্ষণ টেকেনি। ৬৭ হাজার দর্শকের অধিকাংশই নবম মিনিটে স্তব্ধ হয়ে যান। নিকোলাস রাসকিনের ক্রস দুর্বল রক্ষণ ভেদ করে কেটেলারের কাছে পৌঁছালে তিনি সহজ টোকায় বল জালে জড়ান।

এটাই ছিল পুরো বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আগে গোল হজম করার ঘটনা। গোল খাওয়ার পর স্টেডিয়ামের পরিবেশ অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মিডফিল্ডে যুক্তরাষ্ট্র বারবার পিছিয়ে পড়ছিল এবং রক্ষণভাগও ছিল অনিশ্চিত।

প্রথমার্ধের আধাঘণ্টা পার হওয়ার পর বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল আদায় করেন বালোগান। আর তাতেই আবার দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ফিরে আসে। টিলম্যানের ফ্রি-কিক বেলজিয়ামের ডিফেন্সিভ ওয়ালে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়, আর স্টেডিয়াম যেন কেঁপে ওঠে।

কিন্তু সেই আনন্দও ছিল ক্ষণস্থায়ী। ৩৩তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রসে ডি কেটেলারে দারুণভাবে টিম রিমকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ম্যাচে ফিরতে শুরু করে। টিলম্যানের দীর্ঘ থ্রো থেকে বালোগানের জোরালো শট বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। পরে টিলম্যানের আরেকটি লম্বা পাস ধরতেও তিনি অল্পের জন্য ব্যর্থ হন।

বিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো কৌশল পরিবর্তন করেন। জিও রেইনাকে ১০ নম্বর ভূমিকায় নামিয়ে ওয়েস্টন ম্যাককেনিকে ডান প্রান্তে সরিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করে এবং প্রতিপক্ষের অর্ধে বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

কিন্তু ৫৭তম মিনিটে নিজেদের ভুলেই বড় বিপদ ডেকে আনে তারা। বেলজিয়ামের একটি লম্বা বল ধরতে গিয়ে গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ফ্রিজ। তিনি ডি কেটেলারেকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পাস দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন।

সুযোগ বুঝে ডি কেটেলারে বলটি ঠেলে দেন হান্স ভানাকেনের কাছে। ফাঁকা জালে দূর থেকে সহজেই বল জালে পাঠান ভানাকেন। 

কয়েক মিনিট পরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন পুলিসিচ। তার সঙ্গে যেন ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে ক্রিস রিচার্ডসের ভুল পাস সরাসরি লুকাকুর কাছে পৌঁছে যায়। অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার কোনো ভুল না করে বেলজিয়ামের বড় জয় নিশ্চিত করেন।