বাসস
  ০৬ জুলাই ২০২৬, ২০:৪২
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ২০:৫২

রানার রেকর্ডের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ

ঢাকা, ৬ জুলাই ২০২৬ (বাসস): পেসার নাহিদ রানার রেকর্ড গড়া ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানে হারল বাংলাদেশ। রানার বোলিং তোপে প্রথমে ব্যাট করে ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। জবাবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে লজ্জার হার বরণ করে নেয় টাইগাররা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। 

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ৬ ওভারে ২৭ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। 

সপ্তম ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলার পথ তৈরি করে বাংলাদেশ। পেসার তাসকিন আহমেদের করা ঐ ওভারের চতুর্থ বলে ব্যক্তিগত ১৮ রানে রান আউট হন জিম্বাবুয়ের ওপেনার বেন কারান। ওভারের শেষ বলে আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে ১৭ রানে শিকার করেন তাসকিন। 

নবম ওভারের শুরুতে আবারও উইকেটের দেখা পান তাসকিন। ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটার ক্রেইগ আরভিনকে প্রথম ডেলিভারিতেই বোল্ড করেন তাসকিন।

৩৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ২৫ রানে পরের ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সবগুলো উইকেটই শিকার করেন রানা। সিকান্দার রাজাকে ১ রানে, ওয়েসলি মাধভেরেকে শূন্য হাতে, ক্লাইভ মাদান্দেকে ২ রানে, ইনোসেন্ট কাইয়াকে ২৬ রানে এবং ব্র্যাড ইভান্সকে ৩ রানে শিকার করেন রানা। এতে ৭০ রানে অষ্টম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। 

১৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে তৃতীয়বার ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকার করলেন রানা। এর আগে একবার করে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন এই ডান-হাতি পেসার। 

২০তম ওভারে ১শর নীচে গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়া জিম্বাবুয়েকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করেন অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান ন্যামহুরি। উইকেটে সেট হয়ে বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন তারা। ২৭তম ওভারে দলের রান ১শতে নেন তারা। ৩০তম ওভারে জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটার। 

ইনিংসের ৩৪তম ওভারে নবমবারের মতো আক্রমণে এসেই বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন রানা। ৩টি চারে ৪১ বলে ২৭ রান করা এনগারাভাকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেটের দেখা পান রানা। ন্যামহুরির সাথে ৮১ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন এনগারাভা।

দলীয় ১৩৩ রানে নবম উইকেট পতনের পর বেশি দূর যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। শেষ ব্যাটার হিসেবে ন্যামহুরিকে শিকার করে ৩৬.৪ ওভারে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে গুটিয়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫ বাউন্ডারিতে ৫১ বলে ৩৩ রান করেন ন্যামহুরি। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন ব্লেসিং মুজারাবানি। 

১০ ওভারে ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন রানা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিং ফিগার এখন রানার। দুই সাবেক পেসার মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেনকে টপকে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে রানা। এছাড়া তাসকিন ২টি ও মিরাজ ১ উইকেট নেন। 

জবাব দিতে নেমে জিম্বাবুয়ের পেসারদের তোপে ১৭ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসানকে ৮ ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ৩ রানে শিকার করেন মুজারাবানি। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে ৬ রানে থামান অধিনায়ক এনগারাভা। 

চতুর্থ উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করেন তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। হৃদয়কে থামিয়ে জিম্বাবুয়েকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন ন্যামহুরি। ৫৮ বল খেলে ১টি চারে ২৫ রান করেন হৃদয়। 

দলীয় ৬৬ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে হৃদয় ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে হারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ৫০ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। 

মোসাদ্দেক হোসেন ৩, মিরাজ ১০, সোহান ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৩১, রিশাদ ৩, তাসকিন-মুস্তাফিজ ৫ রান করে আউট হন। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন রানা। 

জিম্বাবুয়ের চার পেসার এনগারাভা-ইভান্স ৩টি করে এবং মুজারাবানি-ন্যামহুরি ২টি করে উইকেট শিকার করেন। ব্যাট হাতে ৩৩ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পান ন্যামহুরি। 

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে আগামী ৯ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।