শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাব লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এসময় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বীতা বাংলাদেশের ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না বরং ক্লাবগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।
আবাহনী ক্লাবের ম্যানেজমেন্টকে নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য সকল ইভেন্টে ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনকে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আহ্বান জানান, মাঠের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যেন সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে। মোহামেডানের কর্মকর্তাদের আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিত থাকাকে তিনি স্পোর্টসম্যানশিপের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রা টিকে থাকবে। আর এ কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আমিনুল হক জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষা বর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন তিনি।
এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাদের মাঠের উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে, যা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া এবং বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহা সহ বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।