শিরোনাম

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আফ্রিকার নেশন্স কাপ এই সপ্তাহান্তে কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মহাদেশের শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি রোমাঞ্চকর লড়াই অপেক্ষা করছে। নিজেদের প্রথম নেশন্স কাপে খেলতে আসা এমন পাঁচ তরুণের দিকে নজড় দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি :
ব্রাহিম দিয়াজ (রিয়াল মাদ্রিদ/মরক্কো) :
মরক্কোয় অনুষ্ঠিত এবারের নেশন্স কাপে স্বাগতিকদের শিরোপা স্বপ্ন অনেকটাই অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির ওপর নির্ভর করছিল। কিন্তু আফ্রিকার বর্ষসেরা খেলোয়াড় হাকিমি চোটে থাকার কারণে গ্রুপ পর্বে খুব একটা খেলতে পারেননি। সেই সুযোগে দলের মূল ভরসায় পরিণত হয়েছেন দিয়াজ।
২৬ বছর বয়সী দিয়াজ টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন, যার মধ্যে শেষ ষোলোতে তানজানিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটিও রয়েছে। চার গোল নিয়ে তিনি বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
স্পেনের মালাগায় জন্ম নেওয়া দিয়াজ ২০২১ সালে স্পেনের হয়ে প্রথম সিনিয়র আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। পরে তিনি মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তাঁর বাবার শিকড়। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ও এসি মিলান উইঙ্গার ২০২৪ সালের সর্বশেষ নেশন্স কাপের পরপরই ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’-এর দলে জায়গা করে নেন। শুক্রবার ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিশ্চিয়ান কোফানে (বায়ার লেভারকুজেন/ক্যামেরুন) :
বর্তমানে ক্যামেরুন ফুটবলে কিছুটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেলেও, এবারের আফ্রিকান নেশন্স কাপে তারা বেশ সফল। এই দলে তরুণ প্রতিভাদের উত্থান ঘটেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ান কোফানে।
দুয়ালার এই তরুণ এই মৌসুমের আগে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগীয় ক্লাব আলবাসেত থেকে বায়ার লেভারকুজেনে যোগ দেন। এ মৌসুমে লেভারকুজেনের হয়ে ১০টি ম্যাচে মূল একাদমে খেলেছেন। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ও চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসভি এইনডোভেনের বিপক্ষে গোলও করেছেন।
এই পারফরম্যান্সেই নতুন ‘ইনডোমিটেবল লায়ন্স’ কোচ ডেভিড পাগু তাঁকে মরক্কো সফরের দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ১-১ গোওে ড্র হওয়া ম্যাচে অভিষেকের পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে মোজাম্বিকের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন কোফানে। এরপর শেষ ষোলোতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে নির্ণায়ক গোলটিও তাঁর।
ইব্রাহিম এমবায়ে (পিএসজি/সেনেগাল) :
১৭ বছর বয়সী পিএসজি উইঙ্গার এমবায়ে ফ্রান্সের রাজধানীর উপকণ্ঠে বড় হয়েছেন। যুব পর্যায়ে ফ্রান্সের হয়ে খেললেও, নেশন্স কাপের আগে তিনি বাবার দেশ সেনেগালের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
চলতি মৌসুমে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির হয়ে ২০ ম্যাচ খেলা এমবায়ের নভেম্বর মাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে সেনেগালের জার্সিতে অভিষেক হয়।
মরক্কোয় তিনি সেনেগালের হয়ে দারুণ প্রভাব রেখেছেন এবং সাদিও মানে ও ইলিমান এনদিয়ায়ের মতো তারকাদের পাশে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১গোলে ড্র ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে সমতাসূচক গোলের যোগান দেন তিনি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ে বদলি হিসেবে একটি গোলের অ্যাসিস্ট করেন। শেষ ষোলোতে সুদানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে বেঞ্চ থেকে নেমে তৃতীয় গোলটি করেন এমবায়ে। শুক্রবার শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ মালি।
ইব্রাহিম মাজা (বায়ার লেভারকুজেন/আলজেরিয়া) :
‘মাজাদোনা’ নামে পরিচিত ইব্রাহিম মাজা আলজেরিয়ার কোয়ার্টার-ফাইনাল যাত্রায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। বার্লিনে জন্ম নেওয়া ২০ বছর বয়সী এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার যুব পর্যায়ে জার্মানির হয়ে খেললেও, আলজেরীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় ২০২৪ সালের শেষ দিকে আলজেরিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
হার্থা বার্লিনের হয়ে চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্সের পর এই মৌসুমের আগে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে (প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার) তিনি লেভারকুজেনে যোগ দেন। আলজেরিয়ার হয়ে স্ট্রাইকারের পেছনে খেলে তিনি বড় প্রভাব ফেলেছেন।
সুদানের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন মাজা। এরপর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন এবং ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বিপক্ষে গোল করেছেন। ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে ইতোমধ্যেই বিবেচিত হচ্ছেন তিনি।
আকর অ্যাডামস (সেভিয়া/নাইজেরিয়া) :
২৫ বছর বয়সী এই শক্তিশালী স্ট্রাইকার ভিক্টর ওসিমেন ও আডেমোলা লুকমানের নেতৃত্বাধীন ভয়ংকর নাইজেরিয়ান আক্রমণভাগে দারুণ সংযোজন।
এক বছর আগে মন্টিপিলিয়ের থেকে লা লিগার ক্লাব সেভিয়ায় যোগ দেন অ্যাডামস। অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সুপার ঈগলসের দলে ছিলেন না। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লেসোথোর বিপক্ষে অভিষেকে গোল করে নজর কাড়েন।
মরক্কোয় নাইজেরিয়ার প্রথম দুই ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন, যার মাধ্যমে দলটি শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। উগান্ডার বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্রাম পেলেও সোমবার মোজাম্বিকের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ে দলে ফেরেন। একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে এরিক শেলের দলের হয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের লড়াই নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন অ্যাডামস।