শিরোনাম

॥ আমিনুল ইসলাম ॥
ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী এলাকায় ১৯৬১ সাল থেকে লবণ চাষের জন্য ব্যবহৃত ১১৩ দশমিক ৫৬ একর সরকারি জমি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) অনুকূলে নামমাত্র বা প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ গত ৬ আগস্ট শিল্প সচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন, ২০২১ এবং জাতীয় লবণনীতি, ২০২২-এর আলোকে দেশের লবণ শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং লবণচাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় জমিটি বিসিকের অনুকূলে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুতুবদিয়ার লেমশীখালী এলাকায় লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে ১৯৬১ সালে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই ১১৩ দশমিক ৫৬ একর জমিতে আধুনিক লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সমন্বয়ে একটি আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে বিসিকের লবণ শিল্প উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১২টি লবণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কক্সবাজারের সব উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার লবণচাষিদের প্রযুক্তিগতসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিএস জরিপের সময় বিসিকের নিজস্ব ক্রয়কৃত ২ দশমিক ৯০ একর জমির সঙ্গে সরকার থেকে লিজ নেওয়া ১১৩ দশমিক ৫৬ একর জমির মধ্যে ১০৬ দশমিক ৫৭ একরসহ মোট ১০৯ দশমিক ৫৭ একর জমি বিসিকের নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত হয়। তারপরেও প্রতি ১০ বছর পরপর জমিটির লিজ নবায়ন করতে হয়। এর মাঝে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সময়মতো লিজ নবায়ন না হওয়ায় প্রান্তিক লবণচাষিদের কাছে সময়মতো জমি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলে লবণ উৎপাদনও কমে যায়।
এছাড়া খাসজমি হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্নভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
বিসিকের মতে, জমিটি স্থায়ীভাবে কর্পোরেশনের অনুকূলে হস্তান্তর করা হলে লবণের গুণগত মান উন্নয়ন, উৎপাদনোত্তর ক্ষতি কমানো, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লবণচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বাসস’কে বলেন, গত কয়েক বছরে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারমূল্যের ওঠানামা এবং সংরক্ষণ সংকটের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন লবণচাষিরা। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর লবণ শিল্প গড়ে তোলার বিকল্প নেই। বর্তমানে লবণচাষিদের উন্নত পদ্ধতিতে সাদা, দানাদার ও পরিপক্ব লবণ উৎপাদনের বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১০ হাজার দক্ষ লবণচাষি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি কম জমিতে অধিক মানসম্পন্ন লবণ উৎপাদনের জন্য পলিথিন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কালো লবণের উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, কেন্দ্রটির গবেষণা ও প্রদর্শনী কার্যক্রমের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লবণ চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চাষিদের উৎপাদন ব্যয় কমেছে এবং লবণের গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আমদানি-নির্ভরতা কমাতেও এ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে লবণ চাষে ব্যবহৃত এই ঐতিহাসিক জমি বিসিকের অনুকূলে হস্তান্তর করা হলে কুতুবদিয়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় লবণ শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে।
এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, জমিটি বিসিকের অনুকূলে হস্তান্তরের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।