বাসস
  ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩২

নৌযান শুমারিতে ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

ছবি : বাসস

আল-আমিন শাহরিয়ার

ভোলা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : নৌযান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের সঠিক হিসাব নিরুপণের লক্ষ্যে সরকার দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু করেছে।

এ নৌযান শুমারিতে উপকূলীয় জেলা ভোলা ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্যে এ নৌযান শুমারি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিস্ট সূত্র জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময় নির্ধারিত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও জেলা পরিসংখ্যান দপ্তরের আয়োজনে ভোলার উপশহর ইলিশা নৌবন্দরে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

র‌্যালিতে স্থানীয় জেলে, নৌযান মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

পরে র‌্যালিটি বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেঘনা নদীর দুই পাড়ে থাকা বিভিন্ন নৌযান পরিদর্শন করে। র‌্যালিতে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিন্দ্য মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহ আব্দুর রহিম নূরন্নবী, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের নৌযানের সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় নৌযান তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে এ শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের হালনাগাদ তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হবে।

জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাকসুদুর রহমান বাসসকে বলেন, মেঘনার বুকে প্রতিদিন নৌকা, ফেরি ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে। অনেক মানুষের জীবিকা নদী ও নৌযানকে ঘিরে, আবার কারও যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। অথচ এসব নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। সেই ঘাটতি পূরণেই দেশজুড়ে নৌযান শুমারি শুরু হয়েছে। এরই প্রচারের অংশ হিসেবে উপকূলীয় ভোলায় বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, আজ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শুমারির তথ্য নৌ-দুর্ঘটনা কমানো, নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নৌপরিবহন খাতের জনবল ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, নদীকেন্দ্রিক জেলা ভোলার জন্য এ শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌপথে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তব চিত্রও এই তথ্যভাণ্ডারে উঠে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ভোলা শহরতলীর ইলিশা ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে কথা হয় নৌযানে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও নৌযান মালিকদের সঙ্গে।

জেলার কর্ণফুলী লঞ্চ মালিক মেসার্স ব্রাদার্স নেভিগেশনের মালিক মো. সালাউদ্দিন জানান, নৌযান শুমারি সম্পন্ন হলে দেশের মানুষ নৌযান ও এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সঠিক হিসেব জানতে পারবেন। সরকারের এমন পদক্ষেপকে তিনি সাধুবাদ জানান।

বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি ও ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর বাসসকে বলেন, নৌযান শুমারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়ন করতে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো. লুকু চৌধুরী বলেন, নৌযান শুমারির মাধ্যমে সরকার দেশের নৌপথকে আরও যুগোপযোগী করে তুলতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।

একই এলাকার ফেরিঘাটের শ্রমিক সালাউদ্দিন, ইউসুফ ও কামাল হোসেন জানান, নৌযান শুমারি সম্পন্ন হলে প্রতিটি জেলায় লঞ্চ ও ফেরিঘাটগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের পরিসংখ্যানটিও জানা যাবে।

ইলিশা ফেরিঘাট এলাকার গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নোমান বাসসকে বলেন, নৌযান শুমারির ফলে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের নৌযানগুলো একটি শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসবে। সব মিলিয়ে নৌযান শুমারি দেশের নৌপথকে আরও আধুনিকতার ছোয়ায় অবতীর্ণ করবে বলে মনে করছেন তিনি।