শিরোনাম

মুহাম্মদ আমিনুল হক
সুনামগঞ্জ, ২১ আগস্ট ২০২৬ (বাসস): জেলায় গ্রাম আদালতের ওপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আস্থা দিন দিন বাড়ছে। কম খরচে ও স্বল্প সময়ের মধ্যে বিচার পেতে অনেকেই গ্রাম আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
বিগত দুইবছরে জেলার ১২টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতে মোট দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা দুইহাজার ৮০২ টি এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা দুইহাজার ৫৮৭ টি।
এসব মামলা থেকে আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এককোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৩৫ টাকা।
গ্রাম আদালতগুলোয় মামলা ও বিচারপ্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে উল্লেখ করে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আমিনুর রহমান জানান, বিগত ২০২৪ সালের জুলাই হতে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত একবছরে জেলায় গ্রাম আদালতে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ৮৮৯ টি এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা ৭৭১ টি। আবেদনকারিদের মধ্যে ছিলেন ৬৮১ জন পুরুষ ও ২০৮ জন নারী।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই হতে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত একবছরে জেলায় গ্রাম আদালতে মোট মামলার সংখ্যা ছিল একহাজার ৯১৩টি এবং নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা একহাজার ৮১৬টি। মামলার আবেদকারিদের মধ্যে একহাজার ৫০৭ জন পুরুষ এবং একহাজার ৪০৬ জন নারী।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মানুষ অনেকটা স্বস্তি পেয়েছে।
জেলার ছাতক উপজেলার ১ নং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. সুফি আলম সুহেল জানান, গ্রাম আদালতে বিচারের আবেদন করতে বেশি খরচ করতে হয় না।
বরং মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকে রায় মেনে নিতে কঠিন ভূমিকা পালন করতে হয়। তার ইউনিয়নে গ্রাম আদালত সচল আছে এবং মাসে ৫ থেকে ৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফৌজদারি মামলার আবেদনের জন্য ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার আবেদনের জন্য ২০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্রাম আদালতে বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগ যেমন- চুরি, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ, পারিবারিক কলহ সহ অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিচারের জন্য আবেদন করা যায়। এছাড়া পাওনা টাকা আদায়, সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা মূল্য আদায়, জোর করে দখল থেকে উদ্ধার করা, গবাদিপশুর কারণে ক্ষতি, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় প্রভৃতি বিষয়ে দেওয়ানি মামলা করা যায়।
জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, ‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’ শীর্ষক শ্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে গ্রাম আদালত মানুষের বিচার চাওয়ার পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য জায়গা। গ্রাম আদালতের ওপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আস্থা দিন দিন বাড়ছে।