বাসস
  ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০২

মাদারীপুর পৌরসভার ভাঙা সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে পৌরবাসী 

ছবি: বাসস

বেলাল রিজভী 

মাদারীপুর, ৯ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : মাদারীপুর পৌরসভার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীর। পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় চলাচলে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছেন পৌরবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে অস্থায়ীভাবে গর্ত ভরাট বা সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই দ্রুত টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের অন্যতম ব্যস্ত শহীদ বাচ্চু সড়কের সদর মডেল থানার সামনে থেকে কাজীর মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। একই চিত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরদার সড়ক, মন্টু ভুইয়া সড়ক, ডা. অখিল বন্ধু সড়ক ও বাঁশতলাসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায়। কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও ইট বেরিয়ে এসেছে। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে সড়কে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকে এবং গর্তগুলো পানির নিচে ঢেকে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। 

অন্যদিকে, শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ভাঙা সড়কের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

পৌরসভার বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ইমরান আহমেদ পলাশ মুন্সি বাসসকে বলেন, ‘আমাদের এলাকার সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খুবই খারাপ। বৃষ্টির সময় রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়, বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। এতে প্রতিদিন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নিক।’

স্থানীয় বাসিন্দা আলম সরকার বলেন, ‘পৌরসভার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাময়িক মেরামত নয়, স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কার করা প্রয়োজন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের জন্য এসব রাস্তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

অটোরিকশাচালক শামীম ব্যাপারী বলেন, ‘ভাঙা রাস্তায় ঠিকমতো গাড়ি চালানো যায় না। প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। দুর্ঘটনার ভয়ও থাকে। এতে একদিকে আয় কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মেরামতের খরচ বেড়ে গেছে।’

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৯টি ওয়ার্ড ও ৩৪টি মৌজা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর পৌরসভায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত ১০ বছরে সড়ক উন্নয়নে ৫০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ব্যয়ের তুলনায় সড়কের মান ও স্থায়িত্ব আশানুরূপ হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক সড়ক পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, শুধু সড়কে নতুন কার্পেটিং করলেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের ভিত্তি শক্তিশালী করা, মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণকাজে নিয়মিত তদারকি থাকলে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব। জলাবদ্ধতা দূর না হলে বর্ষার পানিতে নতুন করে নির্মিত সড়কও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু বাসসকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এতে বর্তমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আমরা আশা করছি।’

এদিকে, সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, পরিকল্পিত ও টেকসই সড়ক নির্মাণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উন্নয়নকাজে মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, একটি জেলা শহরের উন্নয়নের অন্যতম সূচক হলো নিরাপদ ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা। তাই দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।