বাসস
  ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আগামীকাল

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান। ফাইল ছবি

॥ সুলতান মাহমুদ ॥

নড়াইল, ৯ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আগামীকাল সোমবার। ১৯২৪ সালের এদিনে তিনি নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. মেছের আলি এবং মাতার নাম মোছা. মাজু বিবি। পিতা-মাতা আদর করে সুলতানের নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। 

এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বাসসকে বলেন, এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী পালনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার আয়োজনে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। 

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালায় সকাল ৬টায় কোরান খতম, সকাল ৯টায় শিল্পীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও দোয়া মাহফিল, সকাল সাড়ে ৯টায় শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী উদ্বোধন, সকাল ১০টায় আর্ট ক্যাম্প উদ্বোধন, আলোচনা অনুষ্ঠান ও সম্মাননা পদক প্রদান। পরে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

স্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।

‘এসএম সুলতান : জীবনঘনিষ্ঠ ও সমাজ বাস্তবতার শিল্পী শীর্ষক’ আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চল।

এ বছরের ‘সুলতান সম্মাননা পদক-২০২৬’ পাচ্ছেন ড. মো: আব্দুস সাত্তার।
খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান, এস এম সুলতান সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী।  

চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান নড়াইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীর পাড়ে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা, পাখির কলকাকলিতে ভরা মাছিমদিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন নানা দৃশ্যপট। তাঁর তুলির আঁচড়ে বাঙময় হয়ে উঠেছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা দৃশ্য। যেমন : পাট কাটা, ধান কাটা, ধান ঝাড়া, জলকে চলা, গ্রামের খাল, মৎস্য শিকার, গ্রামের দুপুর, নদী পারাপার, ধান মাড়াই, জমিতে চাষ দিতে যাওয়া, মাছ ধরা, নদীর ঘাটে গোসল করা, ধান ভানা, গুন টানা, ফসল কাটার ক্ষণ, শরতের গ্রামীণ জীবন, শাপলা তোলার মতো বিখ্যাত সব ছবি। ১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালনী বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, সালভেদর দালিসহ বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে।

১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মূলত এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশের সুশীল সমাজের সাথে তার নতুনভাবে পরিচয় ঘটে।

কালোত্তীর্ণ চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল শিশুদের নিয়ে। নিজের সঞ্চিত অর্থে শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় চিত্রা নদীর পাড়ে নিজ বাড়িতে শিশুস্বর্গ নির্মাণ করে নৌকায় করে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতি দেখবেন। তার উদ্দেশ্য ছিল শিশুরা প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে। প্রকৃতি দেখে ছবি আঁকবে। কিন্তু তাঁর সেই সাধ পূর্ণ হওয়ার আগেই শিল্পী সুলতান মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর চিরকুমার, অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পী যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। নড়াইলে নিজ বাড়ির আঙিনায় তাকে সমাহিত করা হয়। সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তাঁর নিজ বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।