বাসস
  ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩২

পদ্মার মূল চ্যানেলের গতিপথ পরিবর্তনে ঝুঁকিতে মুন্সীগঞ্জের নদীতীর রক্ষা বাঁধ

লৌহজংয়ের গাওঁদিয়া এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা নদী এখন পদ্মার মূল চ্যানেল হওয়ায় শংকারমুখে পরেছে ৫০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ। ছবি : বাসস

/ মো.মঞ্জুর মোর্শেদ /

মুন্সীগঞ্জ, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ( বাসস ) : প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে মূল নদী পথ পরিবর্তন করে নতুন শাখা চ্যানেলকে প্রধান চ্যানেলে রুপান্তর করেতে পারে। এমনই প্রাকৃতিগতভাবে সৃষ্ট কারণে মুন্সীগঞ্জে পদ্মার মূল চ্যানেলের গতিপথের পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নদীতীর রক্ষা বাঁধ। পদ্মার শাখা নদী এখন মূল চ্যানেলে পরিণত হওয়ায় তীব্র স্রোতে অব্যাহত ভাঙনের মুখে পরেছে সদর উপজেলার নদীর তীরবর্তী শিলই, বাংলা বাজার এবং লৌহজং উপজেলার গাওঁদিয়া এলাকা। 

লৌহজংয়ের গাওঁদিয়া এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা নদী এখন পদ্মার মূল চ্যানেল হওয়ায় শংকারমুখে পরেছে ৫০০ মিটার তীর রক্ষা বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীতীরবর্তী এলাকায় জিওব্যাগ এবং সিসি ব্লক ফেলে ভাঙন রোধ করেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ নির্মাণের দুই মাসের মধ্যে লৌহজং উপজেলার গাওঁদিয়া বাজার এলাকায় স্থায়ী রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ২০০ মিটার এলাকার নদীতীর রক্ষা বাঁধের ব্লক আকস্মিক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরইমধ্যে ভাঙনের মুখোমুখি এলাকাবাসী বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। 

পাউবো জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ এবং সিসি ব্লক ফেলে ভাঙন রোধ করে। স্থায়ীভাবে নির্মিত বাঁধ এলাকায় আকস্মিক ভাঙনে বাঁধের স্থায়ীত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড কারণ অনুসন্ধানে ভাঙন এলাকায় জরিপ করে নদীর গভীরতা পায় প্রায় ২৫ মিটার। বাঁধ নির্মাণের সময় নকসায় এর পরিমাপ ছিল তার চেয়ে কম। নদীর মূল চ্যানেল প্রায় ১ কিলোমিটার ভিতরে গাঁওদিয়া বাজার ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তলদেশে গভীরভাবে ক্ষয় (স্কাওয়ার) সৃষ্টি হওয়ায় নদীর তলদেশ নীচে নেমে যাচ্ছে। এতে তীরের মাটি ধ্বসে পরছে। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল বাসস’কে বলেন ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে জেলার লৌহজং ও টংগিবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০.৫৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পদ্মার ভাঙন থেকে পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে জেলার লৌহজং ও টংগিবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে ৯.১০০ কিলোমিটার নদীতীর ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মান, ৬.৩৬০ কিলোমিটার সতর্কমূলক প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং ৫.০৯০ কিলোমিটার শক্তিশালীকরণ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এছাড়া গাওদিয়া এলাকায় ৫০০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান থাকা অবস্থায় এরই মধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের নকসা প্রনয়নের সময় যে অংশ পদ্মার শাখা চ্যানেল ছিল, গতি পথ পরিবর্তন হয়ে এখন সেখান দিয়ে পদ্মার মূল চ্যানেল প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণেই ওই স্থানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, পদ্মার সর্বশেষ হাইড্রোলিক ও মরফোলজিক্যাল তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা নকশা নিয়মিত পর্যালোচনা না করলে দীর্ঘমেয়াদে বাঁধ আরো ঝুঁকির মধ্যে পরবে। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড বিশেষঞ্জদের নিয়ে করণীয় সর্ম্পকে বিশেষ সভা করেছে, যাতে বাঁধে আগামীতে আর কোন ভাঙন দেখা না দেয়।

শিলই বাংলাবাজার এলাকায় পদ্মার গতিপথ দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। পদ্মার মূল চ্যনেল এখন শিলই বাংলাবাজার এলাকায়রপাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এবং বাংলাবাজার এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকা শম্বুহালদার কান্দি, সরকারকান্দি, বানিয়াল ও মহেষপুর এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০০০ সাল থেকে নদীর চ্যানেল ধীরে ধীরে উত্তর পূর্ব দিকে শিলই বাংলাবাজারের দিকে সরে আসতে থাকে। ২০১৫ সাল থেকে নদীর মূল চ্যানেল প্রায় ১ কিলোমিটার ভিতরে তীরের খুব কাছে চলে আসে। এতে শিলই বাংলাবাজারের সামনে গভীরভাবে তলদেশ ক্ষয় (স্কাওয়ার) হওয়ায় নদীর তলদেশ নিচে নেমে যায় এবং তীরের নীচের মাটি সরে গিয়ে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। ২০২০ সালে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় নদীগর্ভে বিলীন হয় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি। 

চলতি বর্ষা মৌসুমে শিলই এবং বাংলাবাজার এলাকায় এরইমধ্যে আবার ভাঙন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধে কাজ করছে।

পানি উন্নযন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাসস’কে বলেন, ভাঙন রোধে শিলই ইউনিয়নের পূর্বরাখী এলাকায় ১২ হাজার জিওব্যাগ ফেলানোর কাজ চলছে। এছাড়া শম্বুহারদারকান্দি এলাকায় ১৮ হাজার জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়েছে।