বাসস
  ২৬ জুন ২০২৬, ১৩:০২

ভিটামিন ‘এ’ পাবে ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু, কেন্দ্রে কেন্দ্রে  পৌঁছেছে ক্যাপসুল

ঢাকা, ২৬ জুন, ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘ ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী রোববার (২৮ জুন)। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলোতে আগামীকাল (শনিবার) পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ সদর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী সিদ্ধার্থ কুমার বাসসকে বলেন, ‘আমি আমাদের চাহিদা অনুযায়ি  ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল হাতে পেয়েছি। আমার কেন্দ্রের জন্য লাল ক্যাপসুল পেয়েছি ১ হাজার ১৫৬ টি এবং নীল ক্যাপসুল পেয়েছি ১১৫ টি। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮ টা থেকে নির্দিষ্ট বয়সের শিশুদের এই টিকা খাওয়ানো হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৮ জুন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন চলবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দুই কোটি ৪০ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২ টি জেলার ৫৮ টি উপজেলার ২৯০ টি ইউনিয়নের ৭১৪ টি ওয়ার্ড দুর্গম অঞ্চলে রাউন্ড বা ক্যাম্পেইন পরবর্তী ৪ দিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম চালানো হবে।

প্রস্তুতির বিষয়ে পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, ইতোমধ্যে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকল কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে  জানা যায়, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ২২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার ২২৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসসকে বলেন, আগামী ২৮ শে জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআই’র নিয়মিত কেন্দ্র। এছাড়া আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, ট্রেইনস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাপসুল ইতিমধ্যে সকল কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকেরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করবেন।

২৮ জুন সকালে রাজধানীতে শাহবাগস্থ আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। আনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার  উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্ভোধন করবেন এবং মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (তাদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকি কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দু'বার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটে গত বছর মার্চের পর তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিটামিন ‘এ’ শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না বরং ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।