শিরোনাম

আমিনুল ইসলাম
ঢাকা, ২৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : আয় বৃদ্ধি এবং অব্যবহৃত জমি বেদখলমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
এজন্য ইতোমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি ভবন নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৮ কোটি টাকা।
বিসিআইসি ও এর অধীনস্থ কারখানার মালিকানাধীন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত অব্যবহৃত জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এতে একদিকে করপোরেশনের আয় বাড়বে, অন্যদিকে জমিগুলো বেদখলের ঝুঁকি থেকেও সুরক্ষিত থাকবে।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘বিসিআইসির অনেক জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় অবৈধ দখলে চলে গিয়েছিলো। আমি দ্বায়িত্ব নেয়ার পরে অনেক জায়গা পুনঃদখল করে বিসিআইসির সাইনবোর্ড লাগিয়েছি।’
তিনি বলেন, এসব জমিতে ১০টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি ভবনের টেন্ডার আহ্বান প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণকাজ শেষ হবে।
ফজলুর রহমান জানান, চট্টগ্রামের মুরাদপুর, নালাপাড়া, আগ্রাবাদ ও পাহাড়তলী এলাকায় বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় নতুন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং ঢাকার মিরপুরে বিসিআইসি হাউজিং কলোনি এলাকায় এক্সটেনশন ভবন ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের কালুরঘাট ট্রানজিট গুদামের পাশে ১৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার নতুন গুদাম নির্মাণ করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ ও নালাপাড়ায় ২০ তলা, আগ্রাবাদে ১৭ তলা এবং মুরাদপুরে ১৩ তলা বিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সিলেটের ছাতক সিমেন্ট কারখানার পুরোনো গেস্ট হাউসের স্থলে ২০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মোট ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিসিআইসি ও এর আওতাধীন কারখানাগুলোর অব্যবহৃত ১০টি জমি সংরক্ষণ, বেদখল প্রতিরোধ এবং করপোরেশনের রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মুরাদপুর এলাকায় কেপিএম গেস্ট হাউসের স্থলে ১৩ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণে ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৭ কোটি টাকা। দরপত্র আহ্বানের দায়িত্বে রয়েছেন বিসিআইসির প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) চৌধুরী আবিদ আল হাসান।
নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পের আওতায় মুরাদপুর, পাঁচলাইশ এলাকায় ভবনটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে স্যানিটারি, প্লাম্বিং, পানি সরবরাহ, ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজ, ফায়ার ডিটেকশন ও ফায়ার প্রোটেকশন সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৭ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডারিং মেথড-ওটিএম) আহ্বান করেছে বিসিআইসি। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি টাকা।
বিসিআইসির নির্মাণ বিভাগ সূত্র জানায়, নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পের আওতায় আগ্রাবাদের ৬ নম্বর প্লটে আধুনিক বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটিতে স্যানিটারি, প্লাম্বিং, পানি সরবরাহ, ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল ব্যবস্থা এবং অগ্নি শনাক্তকরণ ও অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণে ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় ছাতক গেস্ট হাউসের স্থলে নতুন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮২ কোটি টাকা।
রাজধানীর বিসিআইসি প্রধান কার্যালয়ের উত্তর পাশের খালি জায়গায় ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা। মিরপুরের বিসিআইসি হাউজিং কলোনিতে একটি কনভেনশন হল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ কোটি টাকা।
বিসিআইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্মাণকাজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২০২৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।