বাসস
  ১৬ জুন ২০২৬, ১৭:১২

বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিসিসি’র মশক নিধন কার্যক্রমে কমেছে মশার উপদ্রব

ছবি: বাসস

মোফাজ্জেল হোসাইন

বরিশাল, ১৬ জুন, ২০২৬ (বাসস): বরিশাল নগরীতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশা নিধনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ওষুধ ছিটাচ্ছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। 

এর ফলে এবছর ডেঙ্গুর বিস্তার কমে আসবে বলে মনে করছে বিসিসি। ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

গত মে মাস পরিচ্ছন্নতার মাস ও জুন মাসকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে মশক নিধন মাস হিসেবে ঘোষণা করেন বিসিসি প্রশাসক। এর প্রেক্ষিতে ৫৮ বর্গ কিলোমিটারের বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি ৩০ দিন একটি করে ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানোর ঘোষণা দেন বিসিসি প্রশাসক। 

এ বিষয়ে বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, বিসিসি প্রশাসক জুন মাসকে মশক নিধন মাস ঘোষণা করেছেন। এর জন্য পাঁচটি টিম গঠন করা হয়েছে। আমাদের ৩৫ টি হ্যান্ড স্প্রে ও ৪৫ টি ফগার মেশিন রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি জরুরি টিমও গঠন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও ২০ হাজার লিফলেট বিতরণ করছি। শেবাচিমে যতজন আক্রান্ত আছে তার মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের কোন রোগী নেই। এ থেকে বোঝা যায় আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি।

বিসিসির এমন কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়ে নগরবাসী বলছেন মশার উপদ্রব বিগত বছরের চেয়ে অনেকটাই কমেছে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি জনগণ সচেতন হলে ডেঙ্গু থেকে মুক্তি মিলবে। তবে বর্ষা মৌসুমে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি নগরবাসীর।

নগরীর বাসিন্দা আনিচুর রহমানের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিগত বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। গতবারের চেয়ে এ বছর বাসা বাড়িতে মশার স্প্রে ও জনসচেতনতায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে এলাকায় মশার প্রভাব কমেছে। এতে আমরা সন্তুষ্ট। 

স্থানীয় জামাল খলিফা বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আগের চেয়ে মশার উপদ্রব কমেছে। সামনে বর্ষার মৌসুম, তাই এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। 

আতাউর রহমান বলেন, মশার ওষুধ না ছিটালে মশার ভয়াবহতা বেড়ে যাবে। এর আগেও অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। আমার বাড়ির আশপাশ আমি মোটামুটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। যে যার স্থান থেকে বাড়ি-ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে থাকে ডেঙ্গুতেও বাসা বাঁধতে পারবেনা, আর রোগ ছড়াবে না।

বিগত বছরের তুলনায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমেছে বলে জানিয়েছে বিসিসির মেডিকেল অফিসার। মশক নিধন কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে ডেঙ্গু এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি। 

এ বিষয়ে বিসিসি’র মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি বাসস’কে বলেন, বর্তমান সময় আমরা আগের থেকে অনেক ভালো অবস্থানে আছি। কারণ মানুষকে আমরা সচেতন করতে পারছি। আর এতে মশার বিস্তার কমে আসার পাশাপাশি আক্রান্তের হারও কমেছে। 

তিনি বলেন, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে এখন আক্রান্তের হার অতটা বৃদ্ধি পায়নি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। আশা করছি আরো নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। একটা প্রতিষেধক, আরেকটা প্রতিরোধকমূলক। এজন্য আমাদেরকে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতনতার সাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দায়িত্ব নিতে হবে।

চলতি বছর বরিশাল জেলায় ৩৩৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। চলতি বছর জুন মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। আর বর্তমানে জেলার ১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা সবাই বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, ডেঙ্গুর প্রধান বাহক হচ্ছে মশা। তাই জুন মাসকে আমরা মশক নিধন মাস ঘোষণা করেছি। ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যে সব ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলোকে সচল করাসহ পানি যাতে শহরে না জমে সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। 

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়োছে ১ হাজার ৩১৯ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৭৯ জন রোগী। চলতি বছর এ পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।